টাঙ্গাইলে জমে উঠেছে মৌসুমী পিঠা বিক্রি ॥ স্বল্প আয়ের মানুষের বাড়তি আয়

71

হাসান সিকদার ॥
টাঙ্গাইলে জমে উঠেছে মৌসুমী পিঠা বিক্রি। হেমন্তের নতুন চালে শীতের পিঠা বানিয়ে টাঙ্গাইল শহরের মোড়ে মোড়ে হরেক রকম পিঠা তৈরি করছেন দোকানিরা। বিকেলের পরপর হিমেল হাওয়ায় ধোয়া ওঠা গরম ভাপা পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শহরের বিভিন্ন ফুটপাত, রাস্তার মোড়, অলিগলি, হাট-বাজারগুলোতে এসময়ে ভাপা পিঠার পাশাপাশি অন্যান্য পিঠাও বিক্রি হচ্ছে।
বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি ও খাওয়ার পালা। নতুন চালের মন মাতানো গন্ধে ভরে ওঠে চারপাশ। এমন পরিবেশে শীতের পিঠা খেতে কার না ভালো লাগে। ব্যস্ত এ শহরে অনেকেরই বাসায় পিঠা তৈরি করার সময় নেই। তাই শীতের বিকেল কিংবা সন্ধ্যার হিমেল হাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে পিঠা খেতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানগুলোতে।




টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যোনে পিঠা খেতে আসা আবু সাঈদ টিনিউজকে বলেন, এখানকার পিঠার স্বাদ আলাদা। বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে মাঝে মাঝেই এই দোকানে পিঠা খেতে আসি। পিঠা খেতে আসা রাব্বি হোসেন টিনিউজকে বলেন, সময় পেলেই সন্ধ্যার পর এখানে পিঠা খেতে আসি। পাশাপাশি বেশ কয়েক পদের ভর্তা দিয়ে পিঠা খাওয়া যায়। তাই এখানে পিঠার স্বাদ নিতে আসি। পিঠা বিক্রেতা খাদিজা বেগম টিনিউজকে বলেন, এবার চালের দাম বেশি তাই প্রতিটি চিতই পিঠা ১০ টাকা রাখা হচ্ছে। তবুও বিক্রি ভালো হচ্ছে। প্রতিদিনি যা বিক্রি করি তা থেকে ৮০০-১০০০ টাকা লাভ থাকে। পিঠা বিক্রি করে আমার সংসার ভালো চলছে।
শহরের ছয়আনি পুকুর পাড় এলাকার পিঠা বিক্রেতা কহিনুর বেহম টিনিউজকে বলেন, শীতে শহরের মানুষ গরম পিঠা খেতে ভালোবাসে। তাই আমি মধুপুর থেকে এসেছি পিঠা বিক্রি করার জন্য। পিঠা বিক্রি করে ভালো অয় হচ্ছে। ছেলে মেয়ের পড়াশোনা ও সংসার ভালো চলছে। সেখানে পিঠা কিনতে আসা মীম আক্তার টিনিউজকে বলেন, বাসায় কাজকর্ম করে পিঠা বানানো সময় পায় না। তাই ভ্রাম্যমাণ এই দোকান থেকে পিঠা নিয়ে পরিবারের সাথে মজা করে খায়। এখানকার পিঠা মান ও স্বাদ ভালো। মাঝে মাঝে পিঠা নিয়ে খাওয়া হচ্ছে।




শহরের বেশকয়েকটি পিঠার দোকান ঘুরে দেখা যায়, পৌর উদ্যান, কুমুদিনী কলেজ গেট, নুতন বাসস্ট্যান্ড, বিশ্বাস বেতকা এলাকা, ছয়আনি পুকুর পাড়, বেড়াডোমা ব্রিজ পাড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ফায়ার সার্ভিস রোড়, গোডাউন ব্রিজ পাড় ও আমিন বাজার প্রবেশ দ্বারসহ প্রায় শতাধিক স্থানে বসেছে পিঠা তৈরির অস্থায়ী দোকান। প্রতিদিন বিকেল থেকে পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে দোকানগুলোতে। সন্ধ্যা হলেই বেড়ে যায় ক্রেতা সমাগম, যা রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত চলে। রিকশাচালক, দিনমজুর, শিশু-কিশোর, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পিঠার দোকানে ভিড় করছেন। অনেকে কর্মস্থল থেকে ঘরে ফেরার পথে সন্ধ্যায় পিঠা নিয়ে যান। ব্যস্ত শহরের জীবনে অনেকেরই বাসায় পিঠা তৈরি করার সময় নেই। তাই শীতের বিকেল কিংবা সন্ধ্যার হিমেল হাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে পিঠা খেতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানগুলোতে।




সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন মোড় ও পাড়া মহল্লায় হতদরিদ্র ও স্বল্প আয়ের লোকজন গড়ে তুলেছেন শতাধিক পিঠার দোকান। এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানে নারীদের পাশাপাশি অনেক পুরুষরাও পিঠা বিক্রি করছেন। এর ফলে তারা বাড়তি আয় করতে পারছেন। বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেচা-বিক্রি বেশ ভালো। তাই তারা এই শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রিকে বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ