টাঙ্গাইলে চাল ও সবজির দাম কমেছে ॥ ভোজ্যতেল স্থিতিশীল

169

হাসান সিকদার ॥
টাঙ্গাইলে নিত্যপণ্যের বাজারে কমতে শুরু করেছে সব ধরনের চালের দাম। উচ্চ দামে স্থিতিশীল রয়েছে খোলা ভোজ্যতেলের বাজার। দ্রুত সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম কমাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। সবজির সরবরাহ আরও বাড়ায় কমেছে দাম। আদা, রসুন, আটা ও ময়দার দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ, ডাল, চিনি ও ডিমের দাম। ব্রয়লার মুরগি, মাছ ও মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল শহরের পার্কবাজার, ছয়আনী বাজার ও বটতলা বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। চাল ব্যবসায়ীরা টিনিউজকে জানিয়েছেন, চিকন, মোটা ও মাঝারি এই তিন ধরনের চালের দামই কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় মোটা চালের দাম কমেছে কেজিতে ২ টাকা করে। এছাড়া চিকন ও মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের দাম কেজিতে কমেছে ১ টাকা করে। খুচরা ব্যবসায়ীরা মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরিখ্যাত চাল বিক্রি করছেন ৪৩-৪৮ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এই চাল ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চিকন নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬৫ টাকা কেজি। মাঝারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। ছয়আনী বাজারের চাল ব্যবসায়ী হাবিব ইসলাম টিনিউজকে জানান, বাজারে চালের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে দাম কমে আসছে। আমদানিকৃত চাল বাজারে আসা শুরু হলে আগামীতে দাম আরও কমতে পারে।
এখনও বাজারে উচ্চ দামে স্থিতিশীল রয়েছে খোলা ভোজ্যতেলের বাজার। দাম কমার কোন লক্ষণ নেই। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কমছে না। এদিকে বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়, পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়। তবে এক লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে। আগের সপ্তাহে এক লিটার সয়াবিন বোতল ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে সেই বোতলের দাম রাখা হচ্ছে ১৩০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে বোতল পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৫৬০-৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বটতলা বাজারের ব্যবসায়ী খাইরুল আলী বলেন, খোলা সয়াবিন এখন ১২০-১২৫ টাকা কেজি বিক্রি করছি। ব্র্যান্ডভেদে পাঁচ লিটারের বোতল ৫৮০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।
এদিকে, নিত্যপণ্যের বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ ভাল। পেঁয়াজ ও আলুতে ভরপুর বাজার। ফলে সব জিনিসের দাম কমে এসেছে। তিনি গত সপ্তাহের মতো ভালমানের পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি করছেন ২০-৩০ টাকা, শিম ২০-৪০ টাকা কেজি। ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ১০-২০ টাকা। এছাড়া মুলা ১০-১৫ টাকা, গাজর ৩০-৫০ টাকা, বেগুন ২০-৩০ টাকা, উচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বড় লাউ। সবজির পাশাপাশি স্বস্তি দিচ্ছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। ভালমানের নতুন আলুর কেজি ২০ টাকার মধ্যে। ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দেশী পেঁয়াজ। ২০ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছে আমদানি করা পেঁয়াজ। খুচরা বাজারে আদা প্রতিকেজি ৮০-১২০, রসুন ১০০-১৩০, আটা প্রতিকেজি ৩০-৩৫, ময়দা প্যাকেট ৩৫-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি চিনি ৬৫-৭০, প্রতিহালি ডিম ২৮-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। বাজারে দেশী মাছের সরবরাহ বেড়েছে। স্থিতিশীল রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম।

 

ব্রেকিং নিউজঃ