টাঙ্গাইলে চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা

81

জাহিদ হাসান ॥
রবি শস্যের মধ্যে অন্যতম একটি লাভজনক আবাদ হচ্ছে গম। বিগত সময়ে গমের আবাদ কমলেও টাঙ্গাইলে বর্তমানে কৃষকরা আবারো গমের আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে গমের বাজার ভালো থাকায় গম চাষে লাভের আশা করছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে গতবারের চেয়ে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে বেশী গমের আবাদ হয়েছে। সবমিলিয়ে কৃষক ও কৃষি বিভাগ গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
চলতি রবি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গমের চাষ করা হয়েছে। এবার জেলার ৫ হাজার তিন’শ ১০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের গমের চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে প্রায় এক হাজার হেক্টর বেশী। বর্তমানে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় মাঠে গমের শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। অল্প কয়েক দিন পর জমি থেকে চাষিরা গম কাটা শুরু করতে পারবেন। রোগবালাইয়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। বিগত সময়ের চেয়ে এবার গমের দানা খুব ভালো এসেছে। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত গমের অনুকূলে থাকে ও গমের বাজার ভালো থাকে তাহলে চাষিরা লাভবান হবেন।
চাষিরা টিনিউজকে জানান, গম চাষে তেমন পানি, সার, কীটনাশক, বালাইনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না বলে খরচ অনেক কম। আর কম পরিশ্রমে অধিক লাভ করা যায়। এছাড়াও গমে পোকা-মাড়কের আক্রমনও তেমন একটা হয় না। গমের শীষ নেওয়ার পর গমের গাছ জ্বালানি ও বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব বিবেচনায় নিশ্চিত করে বলা যায় গম চাষ একটি অধিক লাভজনক আবাদ।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এহসানুল বাশার টিনিউজকে জানান, লাভজনক এই গম চাষে চাষিদের আগ্রহী করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত চাষিদের মাঝে উন্নতজাতের গমবীজ, সার, বালাইনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে কৃষি অফিস। বর্তমানে দেশে গমের চাহিদার বিশাল ঘাটতি পূরণে প্রতি বছর বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি নির্ভরতা কমাতে অনাবাদি জমিগুলো আবাদের আওতায় আনার কোন বিকল্প নেই।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ