টাঙ্গাইলে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা

64

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা গরুকে খাবার দেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। এতে কমে গেছে দুধের উৎপাদনও। খাদ্য ও শ্রমিক খরচ মিটিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। সম্প্রতি গো-খাদ্য ভুসি ও দানাদার খাবারের দাম বাড়ায় খামার মালিকরা দুধেল গাভি ও ষাঁড় গরুর খাবার কমিয়ে দিয়েছেন। অনেক খামারি ভুসি ও দানাদার খাবারের পরিবর্তে শুকনা খড় ও ঘাস খাওয়াচ্ছেন। এতে গাভি দুধ দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। ষাঁড় গরুর ওজনও কমে যাচ্ছে। খাদ্যের দাম না কমলে গরু বিক্রি করার পরিকল্পনাও করছেন অনেক। দাম না কমলে কোনো কোনো খামারি আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন।

 

ঘাটাইল উপজেলার হারুয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার আরএনএস ডেইরি ফার্মের মালিক শফিকুল ইসলাম। আগে তিনি ফার্মাসিস্টের চাকরি করতেন। বিগত ২০১৬ সালে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে গরুর খামার করেন। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে তার খামারে ১৩টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু আছে। শফিকুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, গত বাজেটে সরকার বলেছিল পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু বাজেটের পর থেকে গো-খাদ্যের দাম সাতবার বেড়েছে। গত বছরের জুন মাসে ভুসির দাম ছিল ১২৯০ টাকা। ১১ মাসের ব্যবধানে হয়েছে ২১৫০ টাকা। সিন্ডিকেটের কারণেই দফায় দফায় এসবের দাম বাড়ছে। কিন্তু সরকার কোনো কিছুর দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তিনি টিনিউজকে আরও বলেন, যেহেতু দেশের সবকিছুর দাম বাড়ছে, সেই অনুযায়ী দুধ ও গরুর দাম সরকার নিয়ন্ত্রণ করে দাম বাড়িয়ে দেবে আশা করছি। যদি তা না করে তাহলে আমরা আন্দোলনে নামবো। আশরাফ হোসেন টিনিউজকে জানান, তার খামারে ১৩টি গরুর পেছনে দৈনিক খরচ প্রায় ৪৫০০ টাকা। এর মধ্যে পাঁচটি গাভি দুধ দেয় ৯০ কেজির মতো। মিষ্টি ও চায়ের দোকানে ৫৫ ও ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে আসে ৫২০০ থেকে ৫৩০০ টাকা। এর মধ্যে শ্রমিক খরচ, চিকিৎসা খরচ, বিদ্যুৎ বিল দিয়ে এক টাকাও থাকে না। দিন শেষে আরও পকেট থেকে দিতে হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে এই খামারি টিনিউজকে বলেন, যদি গো-খাদ্যের দাম এভাবে বাড়তেই থাকে তাহলে বউ-বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে মরা ছাড়া কোনো উপায় নেই। গুজিখা এলাকার বিবিএফ এগ্রোভেট ফার্মের মালিক আলিমুদ্দিন আলিম। তার খামারে বর্তমানে ১০টি ষাঁড়, ছয়টি গাভি ও বাছুরসহ মোট ১৯টি গরু আছে। তিনি টিনিউজকে বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। আমার মতো অনেক ছোট ছোট খামারি আছে। যারা দৈনিক বাজার থেকে গো-খাদ্য এনে গরু লালন-পালন করেন। খাদ্যের দাম বাড়ায় তারাই বেশি বিপদে পড়েছেন। ভুসি আগে ৩৫ টাকা দরে কিনলেও এখন তা বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। এক মাসে ভুট্টার কেজি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫ টাকা কেজি হয়েছে। সয়াবিন মিল ৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা।

ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর খাবার অনেক বেশি দিতে হয়। যে কারণে অনেকেই গরুর চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য কিনতে পারছেন না। আবার, খরচ কমাতে গো-খাদ্যের পরিবর্তে ঘাস ও খড় দিচ্ছেন অনেকে। তবে গো-খাদ্যের দাম যে হারে বাড়ছে গরুর দাম কিন্তু সে হারে বাড়ছে না। এখন না পারছি গরু বেচে দিতে, না পারছি লালন-পালন করতে। যোগ করেন খামারি আলিমুদ্দিন আলিম।

চর পৌলি এলাকার সুরমা ফিশারিজের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান। তার খামারে ২৩টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু আছে। এর মধ্যে দুধেল গাভি ছয়টি ও নয়টি আছে ষাঁড় গরু। বাকিগুলো ছোট ছোট বাছুর। ছয়টি গাভিকে দৈনিক ৫ কেজি করে ৩০ কেজি দানাদার (ফিড) এবং ৪ কেজি করে ২৪ কেজি ভুসি খাওয়ানো হতো। এখন খাদ্যের দাম বাড়ায় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রায় দৈনিক ৭০ কেজি দুধ দৈনিক উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৫৫ থেকে ৬০ কেজিতে নেমেছে। হাবিবুর রহমান টিনিউজকে বলেন, সবমিলিয়ে দৈনিক লোকসানই হচ্ছে। এভাবে খাবারের দাম বাড়তে থাকলে খামার ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস টিনিউজকে জানায়, গো-খাদ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। খামারি ও কোম্পানির মালিক কেউই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেসব বিষয় নিয়েই আমরা কাজ করছি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ