টাঙ্গাইলে গত ২৬ দিনে ৫ হাজার ১৩৬ জন করোনায় আক্রান্ত

91

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় সোমবার (২৬ জুলাই) নতুন করে ২১৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের । এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১২৮৯৩ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ২০১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৭১, কালিহাতীতে ২৪, ঘাটাইলে ১৮, মির্জাপুরে ১৭, দেলদুয়ার ১৬, সখীপুরে ১৩, বাসাইলে ১১, ভূঞাপুরে ১০, গোপালপুরে ৯, ধনবাড়ীতে ৪, মধুপুরে ৪ ও নাগরপুরে ২ জন রয়েছে।
করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৯৪৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৮৪৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে দ্বিতীয় দফা ও বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে সারাদেশসহ টাঙ্গাইলে কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ এপ্রিল) থেকে আবারো কঠোর লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) থেকে আবারো লকডাউন বৃদ্ধি করা হয় বৃহস্পতিবার (৬ মে) থেকে আবারো লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়, রবিবার (১৬ মে) থেকে আবারো লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়, সোমবার (২৪ মে) থেকে আবারো লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়, সোমবার (৩১ মে) থেকে আবারো লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়, সোমবার (৭ জুন) থেকে আবারো লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে আবারো কঠোর লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়। বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (২৩ জুলাই) পর্যন্ত লকডাউন সিথিল করা হয়। শুক্রবার (২৩ জুলাই) থেকে আবারও কঠোর লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান টিনিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলায় ১২৮৯৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে রবিবার (২৫ জুলাই) পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদরে ৫৪৩৭, মির্জাপুরে ১২৫০, কালিহাতীতে ১০৮০, ঘাটাইলে ৯২৪, মধুপুরে ৭৩৪, সখীপুরে ৬৫২ , দেলদুয়ারে ৬২৯, গোপালপুরে ৫২৪, ভূঞাপুরে ৪৯৯, ধনবাড়ীতে ৩৫২, বাসাইলে ৩৫০ ও নাগরপুরে ২৪৯ জন রয়েছে। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে (ট্রমা সেন্টার, টাঙ্গাইল) চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৭ জন। কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৯৫১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- রবিবার (২৫ জুলাই) পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদরে ২৩৭৯, মির্জাপুরে ৮৬১, কালিহাতীতে ৭২৩, ঘাটাইলে ৫৮৪, মধুপুরে ৪৩৬, গোপালপুরে ৩৭৫, সখীপুরে ৩৩৯, ভূঞাপুরে ২৭৯, ধনবাড়ীতে ২১৭, বাসাইলে ২১০, দেলদুয়ারে ২০৫ ও নাগরপুরে ১৭৮ জন। মোট কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৭৭১০ জন।
গত বছরের (৮ এপ্রিল) জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। জেলায় গত বছরের এপ্রিল মাসে ২৪ জন, মে মাসে ১৪১ জন, জুন মাসে ৪৪৭ জন, জুলাই মাসে ১০২৬ জন, আগস্ট মাসে ৯৬৪, সেপ্টেম্বর মাসে ৫২৯, অক্টোবর মাসে ১৫২, নভেম্বর মাসে ২০৫, ডিসেম্বরে ২১৮, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৩৪, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ পর্যন্ত ২৭১ জন, এপ্রিল পর্যন্ত ৫৭৬ জন, মে পর্যন্ত ৩২৯ জন, জুন পর্যন্ত ২৭৪১ জন, এখন (২৬ জুলাই) পর্যন্ত ৫১৩৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাস ভিত্তিক আবারও করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র টিনিউজকে জানায়, গত (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইলে ১২টি উপজেলায় একযোগে করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। সোমবার (২৬ জুলাই) করোনার টিকার ৫ম চালান জেলায় আসে। এ চালানে ৫৬ হাজার ডোজ টিকা এসেছে। শুক্রবার (৯ জুলাই) করোনার টিকার চতুর্থ চালান জেলায় আসে। এ চালানে ৫৬ হাজার ডোজ টিকা এসেছে। বুধবার (১৬ জুন) করোনার টিকার তৃতীয় চালান জেলায় আসে। এ চালানে ১৫ হাজার ৬০০ ডোজ চীনের টিকা এসেছে। জেলার মোট ৪২টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। শনিবার (১৯ জুন) থেকে আবার করোনার টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) করোনার টিকার দ্বিতীয় চালান জেলায় আসে। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) থেকে করোনার টিকার ২য় ডোজ দেয়া শুরু হয়। গত (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রথম দফায় টাঙ্গাইলে ১ লাখ ২০ হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন আসে। করোনা মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, সরকারি অন্যান্য সংস্থার সম্মুখসারির কর্মী, বয়োজ্যেষ্ঠ জনগোষ্ঠী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সরকারের অত্যাবর্শক্রীয় অন্যান্য এজেন্সির সদস্যরা করোনার টিকা পাবেন। পর্যায়ক্রমে ১৮ বছরের উপরে সকলেই টিকা পাবেন। ১৮ বছরের নিচে, গর্ভবতী মা ও দুগ্ধদানকারী, গুরুত্বর অসুস্থ ও হাসপাতালে ভর্তিকৃত ব্যক্তিরা টিকা পাবেন না। টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৯টি কেন্দ্র এবং ১১টি উপজেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি বুথে দুইজন করে টিকাদান কর্মী ও চারজন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন।

 

ব্রেকিং নিউজঃ