টাঙ্গাইলে কোরবানীর গরু ছাগলের সংখ্যা বেড়েছে ॥ ঘাটতির আশংকা নেই

42

জাহিদ হাসান ॥
কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের খামারীরা ব্যপকভাবে মোটাতাজাকরণ গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। গত দুই বছর ভাল দাম পাওয়ায় খামারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলায় ব্যপক হারে গরু ছাগল বেড়েছে। ভারত ও মায়ানমার থেকে চোরাই পথে গরু না আসলে এবারও দেশের খামারীরা ভাল দাম পাবেন বলে জানিয়েছেন। করোনা সংক্রমনের আগে অব্যাহত লোকসানের মুখে খামারীরা তাদের খামার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তখন গরুর খাদ্য ভুষি ও খড়ের দাম অনেক কম ছিল। সে বছর ভারত ও মায়ানমার থেকে গরু আসায় লোকসানে পড়েছিলেন খামারিরা। এবার গো-খাদ্যের দাম অনেক বেশী থাকলেও লাভের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। টাঙ্গাইলের খামারীরা তাই এ বছর কোরবানীকে সামনে রেখে লাভের আশায় প্রায় ৯০ হাজার দেশি গরু ও ছাগল মোটাতাজা করেছেন। তাই পশু কোরবানীর কোন ঘাটতি হবে না বলে মনে করছেন খামারীরা।

জেলা প্রাণি সম্পদ সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলে ১২টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার খামারে এবার ৮৭ হাজার ৯২টি গরু ও ছাগল মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ৫৯ হাজার ৮১টি, মহিষ দুইশ ৩৩টি, ছাগল ২৪ হাজার ১৮২টি ও ভেড়া তিন হাজার ৫৬৪টি। গত বছর ভাল দাম পাওয়ায় এ বছর চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত গরুগুলো অন্যান্য জেলায় বিক্রি করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

 

স্থানীয় খামারিরা টিনিউজকে জানান, করোনার ধকল কাটিয়ে চলতি বছর জেলার অনেক খামারি গতবারের তুলনায় আরও বেশি গরু মোটাতাজা করছেন। নতুন নতুন অনেক খামার গড়ে উঠেছে। সরকারি নিবন্ধনকৃত খামার ছাড়াও গ্রামের কৃষক ও নারীরা তাদের বাড়িতে দুই চারটি করে গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন। এতে তারা লাভবানও হচ্ছেন। দেশের বাইরে থেকে গরু না আসলে এবার তারা ভাল দাম পাবেন বলে জানান। তবে লাভের পাশাপাশি লোকসানের কথাও শুনিয়েছেন অনেক খামারি। তারা বলেছেন যেভাবে গো-খাদ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাতে খামার আর বেশিদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। কারণ এক বস্তা ভুষির দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা। খড়ের আটি ১২ থেকে ১৫ টাকা। একটি গরুকে হৃষ্টপুষ্ট করতে হলে অন্তত ছয় মাস একটি গরু পালতে হয়। ছয় মাস মোটাতাজাকরণ করে লাভ হয় মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। বিক্রি করতে গিয়ে যদি দাম পড়ে যায় তাহলে ব্যাপকহারে লোকসান গুনতে হয়। টাঙ্গাইল পৌর শহরের সাকরাইলের রানু বেগম ৩৬ টি মধ্যম সাইজের গরু হৃষ্টপুষ্ট করেছেন। তিনি টিনিউজকে বলেন, বড় গরুর চাহিদা কম। ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার গরুর চাহিদা ব্যাপক। এ কারণে তিনি মধ্যম সারির ক্রেতার চাহিদা মাথায় রেখে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। ১৩ হাজার টাকা বেতন দিয়ে একজন কর্মচারী ও ২৫০ টাকা দিয়ে দৈনিক ভিত্তিতে দুইজন মহিলা রেখেছেন খামারে কাজ করতে। ঈদে ভাল দাম না পেলে তিনি ব্যপক ক্ষতির সম্মুিখন হবেন।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে ৫২টি গরু প্রস্তত করেছেন। তিনি টিনিউজকে বলেন, গো-খাদ্যের দাম অনেক বেশি। অনেক খরচ হয়েছে। ঈদে ভাল দাম না পেলে তাকে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। নাগরপুরের নয়াপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন শরীফ প্রতি বছর তিনচারটি গরু হৃষ্টপুষ্ট করে লাভবান হচ্ছেন। গরুকে প্রাকৃতিক ঘাস, খৈল, ভুষি, ও খড় খাওয়ান। তিনি টিনিউজকে আরও বলেন, এবার গো-খাদ্যের দাম বেশি। তাই লাভ নিয়ে চিন্তায় আছেন। সদর উপজেলা হুগড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা ২৩টি গরু হৃষ্টপুষ্ট করছেন। মোটাজাতকরণের ব্যাপারে তিনি টিনিউজকে বলেন, সাধারণত কৃমিমুক্ত, ক্ষুদামন্দা দূর করতে ও মুখে রুচি আনতে গরুকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। স্টেরয়েড না খাওয়ালে গরু মোটা হয় না। রাসায়নিক দ্রব্য সেবন করিয়ে ছয় মাসে একটি গরুর ৮/১০ মন ওজন হয়। ভুষি ও খড়ের দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে ওষুধ সেবন না করে কোন উপায় নেই।

খামারি ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় আধুনিক প্রযুক্তিতে পশু মোটাতাজা করা হয় তার ৬০ ভাগ মোটাতাজা করছেন খামারিরা। আর বাকি ৪০ ভাগ হৃষ্টপুষ্ট করছেন জেলার সাধারণ কৃষকেরা। তারা ছোট আকারে চারটি পাঁচটি গরু লালন পালন করেছেন। এদের কাছ থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ী গরু কিনে ট্রাকে এবং নৌ পথে নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলাই বিক্রি করে। এতে স্থানীয় কৃষকরা লাভবান হয়। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, গোবিন্দাসী, লাউহাটি, শাহজানি, আয়নাপুর, তেবাড়িয়া, তোরাবগঞ্জ, ঘাটাইলসহ বিভিন্ন হাটে প্রচুর পশু ক্রয় বিক্রয় হয়।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রানা মিয়া টিনিউজকে বলেন, জেলায় এবার কোরবানীর পশুর চাহিদার কোন ঘাটতি নেই। খামারীদের আধুনিক প্রযুক্তিেেত পশু হৃষ্টপুষ্টকরণের জন্য বিভিন্ন সময় ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। হরমন ও স্টেরয়ডের পশুকে সেবন করা হলে ওই পশুর মাংস মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে উপজেলার প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তারা তদারকি করছেন। নিরাপদ পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য খামারীদের উদ্ভুদ্ধ করা হয়েছে। তাই খামারী ও ভোক্তারা যাতে সমন্বয় করে কোরবানীর পশু ক্রয় বিক্রয় করতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ