টাঙ্গাইলে করোনা ও বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের ঈদ নেই

14

কাজল আর্য ॥
একদিকে করোনা রোগীর সংখ্যা দিনদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। অন্যদিকে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ। দুই মিলিয়ে অস্বাভাবিক জীবনে টাঙ্গাইলের অসংখ্য মানুষ। ফলে এবারের ঈদুল আযহার আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এরকম পরিবেশ হয়তো কল্পনাও করেন নাই অনেকে। অভাবী অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস দিনদিন বেড়েই চলছে।
টাঙ্গাইলের নবাগত জেলা প্রশাসক আতাউল গনিসহসহ জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬৪৬ জনে। এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ২৯ জন মারা গিয়েছে। করোনায় টাঙ্গাইল সদরে ৬০৯, মির্জাপুরে ৩৭০, মধুপুরে ১০৮, কালিহাতীতে ৮২, সখীপুরে ৭১, ভুঞাপুরে ৬৮, দেলদুয়ারে ৬৪, ঘাটাইলে ৬৩, গোপালপুরে ৬১, নাগরপুরে ৫৪, ধনবাড়ীতে ৪৫ ও বাসাইলে ৪৩ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। মোট চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৮৬ জন। এদের মধ্যে ৯২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- মির্জাপুরে ৩১৮, টাঙ্গাইল সদরে ২৫৫, নাগরপুরে ৪২, মধুপুরে ৪০, কালিহাতীতে ৪০, ঘাটাইলে ৪০, গোপালপুরে ৩৮, সখীপুরে ৩৪, ভূঞাপুরে ৩২, দেলদুয়ারে ৩১, ধনবাড়ীতে ৩০ ও বাসাইলে ২৩ জন। টাঙ্গাইলের বিভিন্নস্থানে সরেজমিনে দেখা যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ নেই বললেই চলে। সামাজিক দূরত্ব কিংবা মাস্ক ব্যবহারে অনিহা চলে এসেছে। কোরবানির হাটে মানা হয়নি স্বাস্থ্য বিধি। হাটগুলোয় গরু সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা কম দেখা গেছে। কামার পাড়ায় ছিল না অন্য বছরের মতো ব্যস্ততা।
এদিকে টাঙ্গাইলের ১১টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইলের বানভাসি মানুষের ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে। বন্যায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কয়েক লাখ পানিবন্দি মানুষ। রাস্তা বা উচু জায়গায় গিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। সেখানেও হানা দিয়েছে বন্যার পানি। গরু, ছাগল হাস, মুরগির সাথে গাদাগাদি করে মানবেতর জীবন যাপন করছে পানিবন্দি এসব মানুষ। ঘরে খাবার নেই। নেই কোন কাজকর্ম। ঈদের আনন্দ তাদের কাছে এখন বিষাদ। জেলার ১০৮৫ টি বাড়ি নদীতে একেবারে বিলীন এবং ৩৫,৩১১ টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৭৬৬ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এবং ১৭৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ১৬৫টি ব্রীজ কালভার্ট, প্রায় ১৪ কিলোমিটার বাঁধ ও ২১১টি ধর্মীয় ও ২৫০ প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১১২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, ৯৭৩৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করায় মানুষের বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায় কিংবা উঁচু জায়গায়। গ্রামীণ রাস্তা ঘাট তলিয়ে ও ভেঙে বন্ধ হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের পুরাতন ভূঞাপুর রোড পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন একদিকে করোনার প্রভাব, অন্যদিকে বন্যার পানি। সব মিলিয়ে আমরা আছি মহাসংকটে। ব্যবসা বাণিজ্য নেই বললেই চলে। এসব কারণে আমাদের মধ্যে ঈদের কোন আনন্দ নেই।
কালিহাতী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আনোয়ার হোসেন প্রামাণিক টিনিউজকে বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় পুরোটাই বন্যা কবলিত। বন্যায় মানুষ খুবই অসহায় পড়েছে। যেখানে খাবার নিয়মিত জুটছে না। সেখানে ঈদের আনন্দ হয় কিভাবে?
বন্যা কবলিত হায়দার আলী, রশিদ মিয়া, লাল মিয়াসহ আরো অনেকে আক্ষেপ নিয়ে টিনিউজকে বলেন, করোনার মধ্যে বন্যা। যেন মরার উপর খরার ঘা। আমরা দিনমজুর। আমাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। তাই এবার ঈদ নাই আমাগো।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আতাউল গণি টিনিউজকে বলেন, জেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্যে ত্রাণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। করোনা ও বন্যায় মানুষের ভোাগন্তিতো হচ্ছেই। সৃষ্টিকর্তার নিকট সবাই প্রার্থনা করি, আমরা এই মহামারী থেকে যেনো দ্রুত মুক্তি পাই।

ব্রেকিং নিউজঃ