টাঙ্গাইলে করোনায় ৪২ জনের মৃত্যু ॥ আক্রান্ত ২৫শ’ ছুঁইছুঁই

84

নোমান আব্দুল্লাহ ॥
টাঙ্গাইলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলছে। জেলায় নতুন করে গত ২৪ ঘন্টায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত আরো ৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২ হাজার ৪৯১ জনে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১২ জন, মির্জাপুরে ১০ জন, মধুপুরে ২ জন, সখীপুরে ৫ জন, ঘাটাইলে ৭ জন এবং দেলদুয়ার উপজেলায় ৭ জন রয়েছেন।
অপরদিকে আক্রান্তের সাথে সাথে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। করোনায় নতুন করে আরো ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ৪২ জনের মৃত্যু হলো। তবে আক্রান্তের পাশাপাশি সুস্থতার হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ১৭৪৭ জন সুস্থ হয়েছেন।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, নতুন করে ৪৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়। আর নতুন করে ১ জনের মৃত্যু হয়। করোনায় জেলায় মোট ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট সুস্থ হয় ১৭৪৭ জন, আর চিকিসাধীন রয়েছেন ৭০২ জন। সূত্র আরো জানায়, গত (৮ এপ্রিল) জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। সদর উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর সব চেয়ে কম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বাসাইল উপজেলায়। জেলায় এপ্রিল মাসে ২৪ জন, মে মাসে ১৪১ জন, জুন মাসে ৪৪৭ জন এবং জুলাই মাসে ১০২৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর চলতি মাসে আজ পর্যন্ত ৮৫৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়। মাস ভিত্তিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ২৩ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২ জন, টাঙ্গাইলের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০ জন এবং বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৬৭ জন। করোনায় মোট টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৯৪৫ জন, মির্জাপুরে ৪১০ জন, মধুপুরে ১৭১ জন, সখীপুরে ১২৭ জন, কালিহাতীতে ১৫৯ জন, ভুঞাপুরে ১১৯ জন, ঘাটাইলে ১৬০ জন, গোপালপুরে ৮৯ জন, দেলদুয়ারে ৮৫ জন, নাগরপুরে ৬৭ জন, ধনবাড়ীতে ১০১ জন এবং বাসাইল উপজেলায় ৫৮ জন রয়েছে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সখীপুর উপজেলায় প্রথম আলোর উপজেলা সাংবাদিক ইকবাল গফুর এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের এক চিকিৎসক রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় প্রথম দিকে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম ছিল। তখন মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিধি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসক কঠোরভাবে কাজ করে। এমনকি তখন লকডাউনও ছিলো কঠোরভাবে। তখন মানুষ স্বাস্থ্য বিধি ঠিকমতো মেনে চলছিলো। যার ফলশ্রুতিতে আক্রান্তের সংখ্যাও কম ছিলো এবং করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিলো। কিন্তু লকডাউন তুলে নেয়ার পর থেকেই বাড়তে থাকে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। যা বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রামপদ রায় টিনিউজকে বলেন, সদর উপজেলায় মোট করোনায় আক্রান্তের মধ্যে পৌর শহরেই ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। করোনার সংক্রমন রোধে স্বাস্থ্য বিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বিকল্প নেই। মানুষকে নিজেই নিজের সচেতন হতে হবে। ঘন ঘন হাত ধুতে হবে এবং মাস্ক পড়তে হবে। এছাড়া করোনা নমুনা দেয়ার পর থেকে নমুনার ফলাফল আসা না পর্যন্ত নিজ বাসায় আইসোলেশনে থাকতে হবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান টিনিউজকে বলেন, মানুষ আগের তুলনায় স্বাস্থ্য বিধি মানছে না। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার করছে না। মানুষকে নিজেই নিজের সচেতনতা হতে হবে। মূলত মানুষ করোনাকে ভয় পাচ্ছে না। ৫ মাস হতে চললো এখনো যদি মানুষ সচেতন না হয় তাহলে, জোর করে মানুষকে সচেতনা করা কঠিন। এজন্য করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, আগে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম ছিলো। কিন্তু পরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। আগে থেকে যারা অসুস্থ তারা ছাড়া সাধারণ সুস্থ মানুষের করোনা হলে তেমন কিছু হচ্ছে না বলে লক্ষ করা যাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষ বাসা থেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, করোনায় টাঙ্গাইলের নবাগত জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য, সিভিল সার্জন, মেয়র, প্যানেল মেয়র, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইউএনও, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আক্রান্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৩৯টি এবং মাস্ক ২ হাজার ৩৯১টি। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৩০৫০ মে.টন চাল ও ৮০ হাজার টি পরিবারের মধ্যে নগদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ২৭ হাজার ৬৬৬ পরিবারকে ৫১ লাখ টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ