টাঙ্গাইলে করোনায় ১৮ হাজার ৫০০ জনের নমুনা সংগ্রহ ॥ আক্রান্ত ৩০৪০

5

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নতুন করে ১৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হযেছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৩০৪০ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৪৪৯ জন। আর টাঙ্গাইল সদরে ২৩, ঘাটাইলে ৭, মির্জাপুরে ৬, দেলদুয়ার ৪, ধনবাড়ীতে ৩, কালিহাতীতে ৩, গোপালপুরে ২, ভুঞাপুরে ২, সখীপুরে ২, বাসাইলে ২, মধুপুরে ১ ও নাগরপুরে ১ জনসহ মোট ৫৬ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে মির্জাপুরে ৬, ঘাটাইলে ৫, টাঙ্গাইল সদরে ২, ধনবাড়ীতে ২, সখিপুরে ১ ও গোপালপুরে ১ জন রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। জেলায় এপ্রিল মাসে ২৪ জন, মে মাসে ১৪১ জন, জুন মাসে ৪৪৭ জন, জুলাই মাসে ১০২৬ জন , আগস্ট মাসে ৯৬৪ এবং এখন পর্যন্ত (২৩ সেপ্টেম্বর) ৪৪৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাস ভিত্তিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। জেলার বাহিরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭ জন। আর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫১৮ জন।
এদিকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১৮ হাজার ৫০০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১১৩ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ৬৪ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৮৯ জনকে। এখন পর্যন্ত প্রেরিত সকল নামুনার রেজাল্ট এসেছে। বর্তমানে জেলায় মোট ৩০৪০ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ৩০৪০ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১০৯০, মির্জাপুরে ৪৯০, কালিহাতীতে ২১০, মধুপুরে ১৯৭, ঘাটাইলে ১৯৭, সখীপুরে ১৮৮, ভুঞাপুরে ১৬৭, ধনবাড়ীতে ১৪১, গোপালপুরে ১১১, দেলদুয়ারে ১০০, নাগরপুরে ৮৪ ও বাসাইলে ৬৫ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৩৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২৪৪৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- টাঙ্গাইল সদরে ৯৭১, মির্জাপুরে ৪৩২, মধুপুরে ১৬৩, ঘাটাইলে ১৬২, সখীপুরে ১২২, কালিহাতীতে ১০২, ভূঞাপুরে ৯৯, ধনবাড়ীতে ৯৮, গোপালপুরে ৯১, নাগরপুরে ৮১, দেলদুয়ারে ৭১ ও বাসাইলে ৫৭ জন।
এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ২২ হাজার ৪০৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ও হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ২১ হাজার ১১৪ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১ হাজার ২৮৯ জন।
এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ৫৬ জন মারা গিয়েছে। নিহতরা হলো- টাঙ্গাইল সদরের পৌর শহরের আদালত পাড়ার আলী কমপ্লেক্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাক, রুহুল আমিন চৌধুরী, আবু তালেব, পৌর এলাকার একজন, পৌর এলাকার কালিপুরে একজন, পৌর শহরের পাড়দিঘুলিয়ায় একজন, দক্ষিন থানা পাড়ার হাসান মাহমুদ, চরকাকুল্লী গ্রামের জিনিয়া, সদরের এগরোজন, থানাপাড়ার আব্দুর রশিদ, মোর্শেদা, পৌর শহরের মুসলিম পাড়ায় আব্দুল ওহাব মিয়া, নতুন একজন, ঘাটাইলে মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, একজন, চান্দসী গ্রামের মতিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান, একজন, নতুন একজন, মির্জাপুরে রেনু বেগম, শামসুল আলম, সমসের আলী, আবু মোতালেব, বিশা মিয়া, প্রকাশ কর্মকার দুলু, ধনবাড়ীতে আব্দুল করিম ভুইয়া, ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বকল (৬৮), নতুন একজন, দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিনের একজন, মহাদেব বসাক, নাজমা বেগম, নতুন একজন, কালিহাতীর কোকডহরা গ্রামের পরেশ বনিক (৮৫), পৌর শহরের বেতডোবার অমলা রানী পাল (৬০), নতুন একজন, সখীপুরে পোশাককর্মী আব্দুল হালিম, পৌর এলাকার মন্দিরপাড়া এলাকায় গীরিস চন্দ্র কর্মকার, ভুঞাপুরে তোফায়েল হোসেন, সুশান মিয়া, গোপালপুরের দুইজন, বাসাইলের আবু সরকার, নতুন একজন, মধুপুরে একজন ও নাগরপুরের একজন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৩৯টি এবং মাস্ক ২ হাজার ৩৯১টি। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৩০৫০ মে.টন চাল ও ৮০ হাজার টি পরিবারের মধ্যে নগদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ২৭ হাজার ৬৬৬ পরিবারকে ৫১ লাখ টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

 

ব্রেকিং নিউজঃ