রবিবার, সেপ্টেম্বর 27, 2020
Home টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলে করোনায় সুস্থতার হার ৫৬%, মৃত্যুর হার ১.৭৭%

টাঙ্গাইলে করোনায় সুস্থতার হার ৫৬%, মৃত্যুর হার ১.৭৭%

এম কবির: টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় সোমবার (৩ আগষ্ট) নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। ঈদের কারণে নতুন কোন নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৬৯০ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯৫৭ জন। সুস্থতার হার ৫৬.৬২ ভাগ। আর টাঙ্গাইল সদরে ১১, মির্জাপুরে ৬, দেলদুয়ার ৩,ঘাটাইলে ২, ধনবাড়ীতে ২, ভুঞাপুরে ২, সখীপুরে ১, মধুপুরে ১, বাসাইলে ১ ও নাগরপুরে ১ জনসহ মোট ৩০ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মুত্যুর হার ১.৭৭ ভাগ।
গত ৮ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। জেলায় এপ্রিল মাসে ২৪ জন, মে মাসে ১৪১ জন, জুন মাসে ৪৪৭ জন এবং জুলাই মাসে ১০২৬ জন, সোমবার (৩ আগষ্ট) পর্যন্ত ৫২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাস ভিত্তিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ২৩ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮ জন, টাঙ্গাইলের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ জন, বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৬২ জন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ১৬৯০ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৬৪০, মির্জাপুরে ৩৭৩, মধুপুরে ১০৮, কালিহাতীতে ৮৩, ভুঞাপুরে ৮২, সখীপুরে ৭১, দেলদুয়ারে ৬৪, ঘাটাইলে ৬৩, গোপালপুরে ৬২, নাগরপুরে ৫৫, ধনবাড়ীতে ৪৫ ও বাসাইলে ৪৪ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৩ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। মোট চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭০৪ জন। এদের মধ্যে ৯৫৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- মির্জাপুরে ৩১৮, টাঙ্গাইল সদরে ২৫৯, দেলদুয়ারে ৪৬, নাগরপুরে ৪৫, সখীপুরে ৪৩, মধুপুরে ৪০, কালিহাতীতে ৪০, ঘাটাইলে ৪০, গোপালপুরে ৩৮, ভূঞাপুরে ৩২, ধনবাড়ীতে ৩০ ও বাসাইলে ২৬ জন।
এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ৩০ জন মারা গিয়েছে। নিহতরা হলো- টাঙ্গাইল সদরের পৌর শহরের আদালত পাড়ার আলী কমপ্লেক্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাক, রুহুল আমিন চৌধুরী, আবু তালেব, পৌর এলাকার একজন, পৌর এলাকার কালিপুরে একজন, পৌর শহরের পাড়দিঘুলিয়ায় একজন, দক্ষিন থানা পাড়ার হাসান মাহমুদ, চরকাকুল্লী গ্রামের জিনিয়া, সদরের একজন, থানাপাড়ার আব্দুর রশিদ, কাগমারা চক এলাকার মোরশেদা, মির্জাপুরে রেনু বেগম, শামসুল আলম, সমসের আলী, আবু মোতালেব, বিশা মিয়া, প্রকাশ কর্মকার দুলু, ঘাটাইলে মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, ধনবাড়ীতে আব্দুল করিম ভুইয়া, ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বকল (৬৮), দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিনের একজন, মহাদেব বসাক, নাজমা বেগম, সখীপুরে পোশাককর্মী আব্দুল হালিম ও মধুপুরে একজন, ভুঞাপুরে তোফায়েল হোসেন, সুশান মিয়া, নতুন একজন ও বাসাইলের আবু সরকার, নাগরপুরের একজন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৩৯টি এবং মাস্ক ২ হাজার ৩৯১টি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পর্যন্ত জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৩০৫০ মে.টন চাল ও ৮০ হাজার টি পরিবারের মধ্যে নগদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ২৭ হাজার ৬৬৬ পরিবারকে ৫১ লাখ টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

ব্রেকিং নিউজঃ