শুক্রবার, আগস্ট 7, 2020
Home টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু ২৯ জন ॥ সুস্থ ৮৬৬ জন

টাঙ্গাইলে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু ২৯ জন ॥ সুস্থ ৮৬৬ জন

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় বুধবার (২৯ জুলাই) নতুন করে ৪১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৫৫৬ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৬৬ জন। আর টাঙ্গাইল সদরে ১০, মির্জাপুরে ৬, দেলদুয়ার ৩,ঘাটাইলে ২, ধনবাড়ীতে ২, ভুঞাপুরে ২, সখীপুরে ১, মধুপুরে ১, বাসাইলে ১ ও নাগরপুরে ১ জনসহ মোট ২৯ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৪১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ২৮, ঘাটাইলে ৪, মধুপুরে ৪, মির্জাপুরে ২, সখীপুরে ১, কালিহাতীতে ১ ও ধনবাড়ীতে ১ জন রয়েছেন। নতুন করে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। এরা হলো- টাঙ্গাইল শহরের থানাপাড়ায় সোমবার (২৭ জুলাই) আব্দুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি নমুনা দেন। পরবর্তীতে নমুনার ফলাফল আসার আগেই মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে তার মৃত্যু হয়। পরে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে নমুনার ফলাফলে তার পজেটিভ আসে। এদিকে দেলদুয়ার উপজেলার করোনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) উপজেলার পাথরাইল পূর্বপাড়া এলাকার মহাদেব বসাক নামের এক ব্যক্তি করোনায় নিয়ে নিজ বাসাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। অপরদিকে একই উপজেলার নাজমা বেগম নামের এক নারী সোমবার (২৭ জুলাই) করোনা নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ভূঞাপুর উপজেলায় এক ব্যক্তি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রবিবার (২৬ জুলাই) মারা যায়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তির নমুনার নমুনা সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে তার করোনা পজেটিভ আসে।
গত ৮ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। জেলায় এপ্রিল মাসে ২৪ জন, মে মাসে ১৪১ জন, জুন মাসে ৪৪৭ জন এবং জুলাই মাসে বুধবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত ৯৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাস ভিত্তিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ জন, টাঙ্গাইলের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ জন, বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬২৮ জন।
এদিকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১১ হাজার ৩৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৩৩ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ৬৯ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৫১ জনকে। এখন পর্যন্ত ৯৯টি নামুনার রেজাল্ট আসেনি। বর্তমানে জেলায় মোট ১৫৫৬ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ১৫৫৬ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৫৬৭, মির্জাপুরে ৩৬৮, মধুপুরে ১০৬, কালিহাতীতে ৭৮, সখীপুরে ৬৬, দেলদুয়ারে ৬৪, ভুঞাপুরে ৬১, ঘাটাইলে ৫৭, গোপালপুরে ৫৫, নাগরপুরে ৫২, বাসাইলে ৪১ ও ধনবাড়ীতে ৪১ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। মোট চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৬১ জন। এদের মধ্যে ৮৬৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- মির্জাপুরে ৩১৩, টাঙ্গাইল সদরে ২২৮, নাগরপুরে ৪২, কালিহাতীতে ৪০, গোপালপুরে ৩৭, মধুপুরে ৩৩, ঘাটাইলে ৩৩, ভূঞাপুরে ৩২, দেলদুয়ারে ৩১, ধনবাড়ীতে ৩০, সখীপুরে ২৯ ও বাসাইলে ১৮ জন।
এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩৬৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ও হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১৫ হাজার ৩৪৭ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ২ হাজার ১৭ জন।
এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ২৯ জন মারা গিয়েছে। নিহতরা হলো- টাঙ্গাইল সদরের পৌর শহরের আদালত পাড়ার আলী কমপ্লেক্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাক, রুহুল আমিন চৌধুরী, আবু তালেব, পৌর এলাকার একজন, পৌর এলাকার কালিপুরে একজন, পৌর শহরের পাড়দিঘুলিয়ায় একজন, দক্ষিন থানা পাড়ার হাসান মাহমুদ, চরকাকুল্লী গ্রামের জিনিয়া, সদরের একজন, থানাপাড়ার আব্দুর রশিদ, মির্জাপুরে রেনু বেগম, শামসুল আলম, সমসের আলী, আবু মোতালেব, বিশা মিয়া, প্রকাশ কর্মকার দুলু, ঘাটাইলে মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, ধনবাড়ীতে আব্দুল করিম ভুইয়া, ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বকল (৬৮), দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিনের একজন, মহাদেব বসাক, নাজমা বেগম, সখীপুরে পোশাককর্মী আব্দুল হালিম ও মধুপুরে একজন, ভুঞাপুরে তোফায়েল হোসেন, সুশান মিয়া, নতুন একজন ও বাসাইলের আবু সরকার, নাগরপুরের একজন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৩৯টি এবং মাস্ক ২ হাজার ৩৯১টি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পর্যন্ত জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৩০৫০ মে.টন চাল ও ৮০ হাজার টি পরিবারের মধ্যে নগদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ২৭ হাজার ৬৬৬ পরিবারকে ৫১ লাখ টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ব্রেকিং নিউজঃ