টাঙ্গাইলে করোনায় আক্রান্ত ৩ হাজার ॥ মৃত্যু ৫৫ জন

2

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) নতুন করে কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৩০০০ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৩৯৯ জন। আর টাঙ্গাইল সদরে ২৩, মির্জাপুরে ৬, ঘাটাইলে ৬, দেলদুয়ার ৪, ধনবাড়ীতে ৩, কালিহাতীতে ৩, গোপালপুরে ২, ভুঞাপুরে ২, সখীপুরে ২, বাসাইলে ২, মধুপুরে ১ ও নাগরপুরে ১ জনসহ মোট ৫৫ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। গত ৮ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। জেলায় এপ্রিল মাসে ২৪ জন, মে মাসে ১৪১ জন, জুন মাসে ৪৪৭ জন, জুলাই মাসে ১০২৬ জন, আগস্ট মাসে ৯৬৪ এবং এখন পর্যন্ত (২০ সেপ্টেম্বর) ৪০৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাস ভিত্তিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।
এদিকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১৮ হাজার ১২৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৭ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ৮৮ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৯৪ জনকে। এখন পর্যন্ত প্রেরিত নামুনার মধ্যে ৭ জনের রেজাল্ট আসেনি। বর্তমানে জেলায় মোট ৩০০০ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ৩০০০ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১০৮৫, মির্জাপুরে ৪৭৬, কালিহাতীতে ২০৭, মধুপুরে ১৯৪, ঘাটাইলে ১৯১, সখীপুরে ১৮৪, ভুঞাপুরে ১৬৭, ধনবাড়ীতে ১৩৮, গোপালপুরে ১১০, দেলদুয়ারে ৯৯, নাগরপুরে ৮৪ ও বাসাইলে ৬৫ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৩৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- টাঙ্গাইল সদরে ৯৫৩, মির্জাপুরে ৪২৬, ঘাটাইলে ১৬২, মধুপুরে ১৬১, সখীপুরে ১১৫, কালিহাতীতে ১০২, ভূঞাপুরে ৯৯, ধনবাড়ীতে ৯০, গোপালপুরে ৮৯, নাগরপুরে ৭৪, দেলদুয়ারে ৭১ ও বাসাইলে ৫৭ জন।
এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ২২ হাজার ১৯৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ও হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ২০ হাজার ৭১০ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১ হাজার ৪৮৬ জন।
এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ৫৫ জন মারা গিয়েছে। নিহতরা হলো- টাঙ্গাইল সদরের পৌর শহরের আদালত পাড়ার আলী কমপ্লেক্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাক, রুহুল আমিন চৌধুরী, আবু তালেব, পৌর এলাকার একজন, পৌর এলাকার কালিপুরে একজন, পৌর শহরের পাড়দিঘুলিয়ায় একজন, দক্ষিন থানা পাড়ার হাসান মাহমুদ, চরকাকুল্লী গ্রামের জিনিয়া, সদরের এগরোজন, থানাপাড়ার আব্দুর রশিদ, মোর্শেদা, পৌর শহরের মুসলিম পাড়ায় আব্দুল ওহাব মিয়া, নতুন একজন, মির্জাপুরে রেনু বেগম, শামসুল আলম, সমসের আলী, আবু মোতালেব, বিশা মিয়া, প্রকাশ কর্মকার দুলু, ঘাটাইলে মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, একজন, চান্দসী গ্রামের মতিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান, নতুন একজন, ধনবাড়ীতে আব্দুল করিম ভুইয়া, ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বকল (৬৮), নতুন একজন, দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিনের একজন, মহাদেব বসাক, নাজমা বেগম, নতুন একজন, কালিহাতীর কোকডহরা গ্রামের পরেশ বনিক (৮৫), পৌর শহরের বেতডোবার অমলা রানী পাল (৬০), নতুন একজন, সখীপুরে পোশাককর্মী আব্দুল হালিম, পৌর এলাকার মন্দিরপাড়া এলাকায় গীরিস চন্দ্র কর্মকার, ভুঞাপুরে তোফায়েল হোসেন, সুশান মিয়া, গোপালপুরের দুইজন, বাসাইলের আবু সরকার, নতুন একজন, মধুপুরে একজন ও নাগরপুরের একজন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৩৯টি এবং মাস্ক ২ হাজার ৩৯১টি। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৩০৫০ মে.টন চাল ও ৮০ হাজার টি পরিবারের মধ্যে নগদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ২৭ হাজার ৬৬৬ পরিবারকে ৫১ লাখ টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

ব্রেকিং নিউজঃ