টাঙ্গাইলে করোনার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৫ হাজার ৫৪৫ জন

67

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় মঙ্গলবার (৪ মে) নতুন করে ১০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৭১৩ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় রবিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৫ হাজার ৫৪৫ জন। আর রবিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৯৯ হাজার ৫৩৭ জন। জেলার মোট ৪২টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৭২ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৩৩, ঘাটাইলে ৮, মির্জাপুরে ৭, দেলদুয়ার ৪, ধনবাড়ীতে ৩, কালিহাতীতে ৩, সখীপুরে ৩, বাসাইলে ৩, গোপালপুরে ২, ভুঞাপুরে ২, মধুপুরে ২ ও নাগরপুরে ২ জন রয়েছে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৫, কালিহাতীতে ১, দেলদুয়ারে ১, মির্জাপুরে ১, সখীপুরে ১ ও বাসাইলে ১ জন রয়েছে। করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৪২৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে দ্বিতীয় দফা ও বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে সারাদেশ সহ টাঙ্গাইলে কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ এপ্রিল) থেকে আবারো কঠোর লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) থেকে আবারো লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়েছে। লকডাউনের ৩০তম দিন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৫৬৪ জন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান টিনিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলায় ৪৭১৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১৯১১, মির্জাপুরে ৬৫৭, কালিহাতীতে ৩১৬, ঘাটাইলে ২৮৩, মধুপুরে ২৭৫, সখীপুরে ২৫৯, ভূঞাপুরে ২২৭, ধনবাড়ীতে ১৮৩, গোপালপুরে ১৬৯, দেলদুয়ারে ১৮১, বাসাইলে ১২৫ ও নাগরপুরে ১২৩ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪০৩৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- টাঙ্গাইল সদরে ১৫১০, মির্জাপুরে ৬৩৫, কালিহাতীতে ২৮৬, মধুপুরে ২৫৯, ঘাটাইলে ২৪০, সখীপুরে ২৪০, ভূঞাপুরে ১৮৭, ধনবাড়ীতে ১৭২, দেলদুয়ারে ১৪২, গোপালপুরে ১৪০, নাগরপুরে ১১৩ ও বাসাইলে ১০৯ জন।
গত বছরের (৮ এপ্রিল) জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। জেলায় গত বছরের এপ্রিল মাসে ২৪ জন, মে মাসে ১৪১ জন, জুন মাসে ৪৪৭ জন, জুলাই মাসে ১০২৬ জন, আগস্ট মাসে ৯৬৪, সেপ্টেম্বর মাসে ৫২৯, অক্টোবর মাসে ১৫২, নভেম্বর মাসে ২০৫, ডিসেম্বরে ২১৮, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৩৪, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ পর্যন্ত ২৭১ জন, এপ্রিল পর্যন্ত ৫৭৬ জন, এখন (৪ মে) পর্যন্ত ২৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাস ভিত্তিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র টিনিউজকে জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে টাঙ্গাইলে ১২টি উপজেলায় একযোগে করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) করোনার টিকার দ্বিতীয় চালান জেলায় আসে। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) থেকে করোনার টিকার ২য় ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। গত (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রথম দফায় টাঙ্গাইলে ১ লাখ ২০ হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন আসে। করোনা মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, সরকারি অন্যান্য সংস্থার সম্মুখসারির কর্মী, বয়োজ্যেষ্ঠ জনগোষ্ঠী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সরকারের অত্যাবর্শক্রীয় অন্যান্য এজেন্সির সদস্যরা করোনার টিকা পাবেন। পর্যায়ক্রমে ১৮ বছরের উপরে সকলেই টিকা পাবেন। ১৮ বছরের নিচে, গর্ভবতী মা ও দুগ্ধদানকারী, গুরুত্বর অসুস্থ ও হাসপাতালে ভর্তিকৃত ব্যক্তিরা টিকা পাবেন না। টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৯টি কেন্দ্র এবং ১১টি উপজেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি বুথে দুইজন করে টিকাদান কর্মী ও চারজন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ