রবিবার, সেপ্টেম্বর 27, 2020
Home টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলে করোনার তীব্রতা বাড়ছে ॥ ১৭৯৩ জন আক্রান্ত

টাঙ্গাইলে করোনার তীব্রতা বাড়ছে ॥ ১৭৯৩ জন আক্রান্ত

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) নতুন করে ৫১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১৭৯৩ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০৯৮ জন। আর টাঙ্গাইল সদরে ১১, মির্জাপুরে ৬, দেলদুয়ার ৩, ঘাটাইলে ২, ধনবাড়ীতে ২, ভুঞাপুরে ২, সখীপুরে ২, মধুপুরে ১, বাসাইলে ১ ও নাগরপুরে ১ জনসহ মোট ৩১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে সখীপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি হলেন- সখীপুর উপজেলার ৭নং ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকায় গীরিস চন্দ্র কর্মকার।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৫১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ২১, সখীপুরে ৯, ঘাটাইলে ৮, মধুপুরে ৪, ধনবাড়ীতে ৩, গোপালপুরে ২, দেলদুয়ারে ২, কালিহাতিতে ১ ও মির্জাপুরে ১ জন রয়েছেন। নতুনদের মধ্যে সখীপুর উপজেলার দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি এবং তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়। ঘাটাইল থানার এএসআই এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী পরিদর্শক আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া মির্জাপুরে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের একজন এসআই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
এ নিয়ে জেলায় মোট ৯৮ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলেন। জেলার বিভিন্ন থানা ও পুলিশ লাইনের ৪৩ জন এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ৩৪ জন ও ওই ট্রেনিং সেন্টারের ২০ জন প্রশিক্ষনার্থী আক্রান্ত হন। অপরদিকে নৌ পুলিশের প্রধান আক্রান্ত হন। তবে করোনায় জেলার কোন পুলিশ সদস্যদের মৃত্যু হয়নি।
গত (৮ এপ্রিল) জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। জেলায় এপ্রিল মাসে ২৪ জন, মে মাসে ১৪১ জন, জুন মাসে ৪৪৭ জন, জুলাই মাসে ১০২৬ জন এবং শুক্রবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত ১৫৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাস ভিত্তিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫ জন, টাঙ্গাইলের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০ জন, বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬২০ জন।
এদিকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১২ হাজার ৪৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ২৪২ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ৯৮ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১১৩ জনকে। এখন পর্যন্ত প্রেরিত সকল নামুনার রেজাল্ট এসেছে। বর্তমানে জেলায় মোট ১৭৯৩ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ১৭৯৩ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৬৭৬, মির্জাপুরে ৩৭৪, মধুপুরে ১১৪, কালিহাতীতে ৮৮, সখীপুরে ৮৯, ভুঞাপুরে ৮৬, ঘাটাইলে ৭৯, গোপালপুরে ৬৭, দেলদুয়ারে ৬৭, নাগরপুরে ৫৬, ধনবাড়ীতে ৫০ ও বাসাইলে ৪৭ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। মোট চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৫০ জন। এদের মধ্যে ১০৯৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- টাঙ্গাইল সদরে ৩৫৭, মির্জাপুরে ৩৩৫, কালিহাতীতে ৫০, দেলদুয়ারে ৪৬, মধুপুরে ৪৬, নাগরপুরে ৪৫, সখীপুরে ৪৫, ঘাটাইলে ৪৫, গোপালপুরে ৩৯, ভূঞাপুরে ৩২, ধনবাড়ীতে ৩২ ও বাসাইলে ২৬ জন।
এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ১৮ হাজার ৯৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ও হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১৬ হাজার ৭৬ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ২ হাজার ২৩ জন।
এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ৩১ জন মারা গিয়েছে। নিহতরা হলো- টাঙ্গাইল সদরের পৌর শহরের আদালত পাড়ার আলী কমপ্লেক্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাক, রুহুল আমিন চৌধুরী, আবু তালেব, পৌর এলাকার একজন, পৌর এলাকার কালিপুরে একজন, পৌর শহরের পাড়দিঘুলিয়ায় একজন, দক্ষিন থানা পাড়ার হাসান মাহমুদ, চরকাকুল্লী গ্রামের জিনিয়া, সদরের একজন, থানাপাড়ার আব্দুর রশিদ, মোর্শেদা, মির্জাপুরে রেনু বেগম, শামসুল আলম, সমসের আলী, আবু মোতালেব, বিশা মিয়া, প্রকাশ কর্মকার দুলু, ঘাটাইলে মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, ধনবাড়ীতে আব্দুল করিম ভুইয়া, ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বকল (৬৮), দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিনের একজন, মহাদেব বসাক, নাজমা বেগম, সখীপুরে পোশাককর্মী আব্দুল হালিম, পৌর এলাকার মন্দিরপাড়া এলাকায় গীরিস চন্দ্র কর্মকার, মধুপুরে একজন, ভুঞাপুরে তোফায়েল হোসেন, সুশান মিয়া, নতুন একজন ও বাসাইলের আবু সরকার, নাগরপুরের একজন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৩৯টি এবং মাস্ক ২ হাজার ৩৯১টি। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৩০৫০ মে.টন চাল ও ৮০ হাজার টি পরিবারের মধ্যে নগদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ২৭ হাজার ৬৬৬ পরিবারকে ৫১ লাখ টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

ব্রেকিং নিউজঃ