শুক্রবার, আগস্ট 7, 2020
Home টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলে একদিনে সর্বোচ্চ ৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত

টাঙ্গাইলে একদিনে সর্বোচ্চ ৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় বুধবার (৮ জুলাই) নতুন করে ৪৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৮৩৭ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪১০ জন। আর মির্জাপুরে ৫, টাঙ্গাইল সদরে ৪, ঘাটাইলে ২, ধনবাড়ীতে ১, দেলদুয়ার ১, সখীপুরে ১, মধুপুরে ১, ভুঞাপুরে ১ ও বাসাইলে ১ জনসহ মোট ১৭ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, নতুন করে ৪৪ জনের করোনা পজেটিভ আসে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১৫, মির্জাপুরে ১১, মধুপুরে ৭, সখিপুরে ৪, ঘাটাইলে ২, গোপালপুরে ২, নাগরপুরে ১, দেলদুয়ারে ১ ও ভুঞাপুরে ১ জন রয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সখীপুর পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনার উপসর্গ থাকায় গত শনিবার তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রোববার নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে নমুনার ফলাফলে তার পজেটিভ আসে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় মধ্যে রাতেই ঢাকার ধানমন্ডি আনোয়ার খান মডার্ণ হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া একই উপজেলার স্বামী-স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়। অপরদিকে মির্জাপুর উপজেলায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ৩ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরা হলেন, ওই ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ পরির্দশক (নিরস্ত্র), এক এএসআই এবং অপরজন কনস্টেবল। এছাড়া একই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ড্রাইভার, ইমাম, ২ জন শিক্ষার্থী, গামেন্স কর্মী এবং ব্রাক কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের ব্যাক্তিগত সহকারী আব্দুল আলীম করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট, দেলদুয়ার উপজেলায় স্বাস্থ্য সহকারী (স্বাস্থ্যকর্মী) করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে জেলায় মোট ৩৮ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলেন। এদের মধ্যে জেলার বিভিন্ন থানা ও পুলিশ লাইনের ১৮ জন এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ১৯ জন এবং নৌ পুলিশের প্রধান আক্রান্ত হন।
জেলায় এপ্রিল মাসে ২৪ জন, মে মাসে ১৪১ জন, জুন মাসে ৪৪৭ জন এবং জুলাই মাসে (আজ পর্যন্ত) ২২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাস ভিত্তিক করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
এদিকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৮৯৪৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১২৯ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ১০৫ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১৮৭ জনকে। ১১৫টি নমুনার রেজাল্ট এখনো পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জেলায় মোট ৮৩৭ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১ জন, টাঙ্গাইলের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ জন, বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে ৩৯২ জন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ৮৩৭ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মির্জাপুরে ২৮৫, টাঙ্গাইল সদরে ১৯০, মধুপুরে ৫০, দেলদুয়ারে ৪৪, কালিহাতীতে ৪৩, নাগরপুরে ৪০, ভূঞাপুরে ৩৮, গোপালপুরে ৩৮, সখীপুরে ৩২, ধনবাড়ীতে ৩১, ঘাটাইলে ৩১ ও বাসাইলে ১৫ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। মোট চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪১০ জন। এদের মধ্যে ৪১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- টাঙ্গাইল সদরে ১০১, মির্জাপুরে ৮৬, নাগরপুরে ৩৭, গোপালপুরে ৩০, মধুপুরে ২৮, ভূঞাপুরে ২৫, কালিহাতীতে ২৪, দেলদুয়ারে ২২, ধনবাড়ীতে ২১, ঘাটাইলে ১৭, সখীপুরে ১৩ ও বাসাইলে ৬ জন।
এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ১৭ জন মারা গিয়েছে। নিহতরা হলো- মির্জাপুরে রেনু বেগম, শামসুল আলম, সমসের আলী, আবু মোতালেব, বিশা মিয়া, টাঙ্গাইল সদরের পৌর শহরের আদালত পাড়ার আলী কমপ্লেক্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাক, রুহুল আমিন চৌধুরী, আবু তালেব, পৌর এলাকার এক জন, ঘাটাইলে মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, ধনবাড়ীতে আব্দুল করিম ভুইয়া, দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের সানবাড়ীতে একজন, সখীপুরে পোশাককর্মী আব্দুল হালিম ও মধুপুরে একজন, ভুঞাপুরে তোফায়েল হোসেন সুশান মিয়া ও বাসাইলের আবু সরকার।
এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ১৫১২৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ও হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১৩ হাজার ৯২৭ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১ হাজার ২০০ জন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি। এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৬ হাজার ৪৯১টি এবং মাস্ক ৩ হাজার ৯০৮টি। এখন পর্যন্ত জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৩০৫০ মে.টন চাল ও ৮০ হাজার টি পরিবারের মধ্যে নগদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ২৭ হাজার ৬৬৬ পরিবারকে ৫১ লাখ টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ব্রেকিং নিউজঃ