টাঙ্গাইলে উদ্বোধনের আগেই চার কোটি মূল্যের ব্রীজটি এখন মরণ ফাঁদ

414

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী ॥
টাঙ্গাইলে উদ্বোধনের আগেই চার কোটির বেশি টাকা মূল্যের ব্রীজটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রীজের উভয় পাশের এপ্রোচের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ব্রীজের সীমানা পিলারগুলো পড়ে রয়েছে দুই পাশে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় অল্প দিনেই ব্রীজের এমন দুর্দশা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রীজটির এপ্রোজের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, চার কোটি ২৩ লাখ ১৪৬ টাকা মূল্যে সদর উপজেলার ছিটকিবাড়ী-চরপৌলী সড়কের ধলেশ্বরী শাখা নদীর উপর ৮১ মিটার ব্রীজের দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ব্রীজটির নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স ফ্রেন্ডস এন্ড নাইজ (জেভি) জয়েন ভেন্সার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিগত ২০১৮ সালের (২৭ অক্টোবর) ব্রীজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন। স্থানীয়রা টিনিউজকে জানান, এক বছর আগে ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও উদ্বোধন করা হয়নি। তবে তার আগেই ব্রীজটির দুই এপ্রোচে মাটি সরে গিয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রীজটির পাশেই মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে। ব্রীজটি দক্ষিণ পাশের এপ্রোচের পূর্ব পাশে প্রায় ১০ ফিট অংশের মাটি সরে গেছে। অপর দিকে উত্তর পাশের এপ্রোচের দুই দিকে ১২ ফিট করে মাটি সরে গেছে। এছাড়াও ব্রীজের উভয় প্রান্তের সীমানা পিলারগুলো পড়ে আছে। দিনের বেলা পথচারীরা স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করলেও রাতে দুর্ঘটনার আতঙ্কে চলাচল করতে হয় এই ব্রীজ দিয়ে। এছাড়াও এর আগে দক্ষিণ প্রান্তের এপ্রোচে প্রায় ১৫ ফিট অংশে থেকে মাটি ও কার্পেটিং সরে গেলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ঢালাই করে ভরাট করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন টিনিউজকে বলেন, এ ব্রীজ দিয়ে যুগনী, বাঘিল, ছিটকি বাড়ি, পৌলি, শিবপুরসহ আশে পাশের ১৫ এলাকার লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। কিন্তু নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় ব্রীজটির এপ্রোচ ও পিলার উদ্বোধনের আগেই ধ্বসে গিয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিককে জানালেও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে ব্রীজ নির্মাণের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করলেও এলজিইডি থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সুলতান মাহমুদ নামের একজন টিনিউজকে বলেন, সরকারি টাকায় এলাকার উন্নয়নের নামে ঠিকাদার, এলজিইডির কর্মকর্তা ও স্থানীয় কিছু পাতি নেতার পকেট ভড়ছে। কাজ নিম্নমানের হলেও অভিযোগ করে কোন সুরাহা পাইনি। তাই ব্রীজের সীমানা পিলার ও এপ্রোচ ধ্বসে যাওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যে কোন সময় এই ব্রীজে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পথচারি মিজানুর রহমান টিনিউজকে বলেন, এখন পুরোদমে বন্যা শুরু হয়নি। বন্যার আগে এপ্রোচ ঠিক না হলে বন্যায় উভয় পাশের এপ্যোচ ধ্বসে চলাচল বন্ধ হতে পারে। এপ্রোচ বন্যায় ধ্বসে গেলে নৌকা ছাড়া আর কোন গতি থাকবে না আমাদের। তাই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বাঘিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ টিনিউজকে বলেন, ধ্বসে পড়ার পর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান, এলজিইডির প্রকৌশলী ও এমপিকে অবগত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী ব্রীজটি পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী টিনিউজকে বলেন, ব্রীজটি পরিদর্শনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলজিইডির প্রকৌলীকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী সৈয়দ শাহিন টিনিউজকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এখনও উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি হলে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ব্রীজে কোন ক্ষতি হয়নি। তবে রাস্তা যে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী একেএম হেদায়েত উল্লাহ টিনিউজকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ