সোমবার, আগস্ট 10, 2020
Home টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলে ঈদের জামাত শেষে হয়নি কোলাকুলি ॥ পশু কোরবানি সম্পন্ন

টাঙ্গাইলে ঈদের জামাত শেষে হয়নি কোলাকুলি ॥ পশু কোরবানি সম্পন্ন

এম কবির ॥
বিশ্ব মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উৎসব আমেজের মধ্য দিয়ে ঈদ পালন করে থাকে। টাঙ্গাইলেও প্রতি বছর ঈদ উৎসব ও আমেজের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। তবে বর্তমানে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু সবই উলট-পালট হয়ে গেছে টাঙ্গাইলের ঈদ উৎসবের। টাঙ্গাইলের সর্বত্র করোনা ভাইরাস ও বন্যা পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দ মাটি করে দিয়েছে।
এবারের ঈদটি টাঙ্গাইলবাসী উদযাপন করছে একদম সাদামাটাভাবে। নেই কোনো খোশ মেজাজ। অজানা এক অদৃশ্য আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। অন্য বার ঈদের নামাজ শেষে একজন আরেকজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার যে দৃশ্য দেখা যেত এবার তা দেখা যায়নি। কেউ কারও সাথে কোলাকুলি করেনি। দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের কুশল বিনিময় করেছেন। জেলার মসজিদে মসজিদে ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব নির্দেশনা মেনে মসজিদে মসজিদে শনিবার (১ আগস্ট) সকালের বিভিন্ন সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে কোলাকুলি বা হাত মেলাতে দেখা যায়নি কাউকে। সবার মাঝেই একটা অজানা আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে।
এরপর জেলার পাড়া-মহল্লাগুলোতে ধর্মীয় রীতি মেনে পশু কোরবানি করেন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা। কেউ এককভাবে, কেউ ভাগে আবার সমাজ ভিত্তিক পশু কোরবানি করা হয়। সকলের বাড়িতে বাড়িতে ভাল রান্নার আয়োজন করা হয়। আবার করোনা আক্রান্ত পরিবার ও বন্যায় বানভাসিরা এবারের ঈদটা চরম বিশাদের মধ্য দিয়ে কাটান।
টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বেড়াডোমা পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা ফয়সাল রহমান টিনিউজকে বলেন, এরকম ঈদের পরিবেশ দেখতে হবে কল্পনাও করিনি কোনো দিন। ঈদের দিন কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার মজাটাই আলাদা। এবার আর তা হল না। সৃষ্টিকর্তা যেন আর এমন ঈদ আর না দেখায়। করোনা ভাইরাস ও বন্যার কারণে টাঙ্গাইলের পাড়া মহল্লার মসজিদে মসজিদে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করা হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কেন্দ্রীয় গোরস্থান ও মার্কাস মসজিদে বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া জেলার পুলিশ লাইনস মসজিদসহ অন্যান্য মসজিদেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাত শেষে খুতবা পেশ ও দেশের করোনা পরিস্থিতি বিষয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করা হয়।
মসজিদগুলোতে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব মেনে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। নামাজ আদায় শেষে মোনাজাতে করোনা থেকে মুক্তি, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করা হয়। তবে নামাজ আদায়ের পর দেখা যায় এবার কেউ কার সাথে কোলাকুলি করেননি। নামাজ আদায়ের আগে মুসল্লীরা নিজেদের জায়নামাজ সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। এরপর শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সারিবব্ধ হয়ে নামাজ পড়েন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ব্রেকিং নিউজঃ