টাঙ্গাইলে ইফতারি বিক্রির হাঁকডাক ছাড়া রোজা এবার

120

জাহিদ হাসান ॥
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে রমজান ও ইফতার আয়োজনের চিত্র। এবার টাঙ্গাইলে রমজান ঘিরে যেমন নেই কোনো বাড়তি আয়োজন, তেমনি নেই ইফতার বাজারের কোনো উৎসব আমেজ। দ্বিতীয় রোজার দিনে ছিল না ইফতার বিক্রির হাঁকডাক, কেনার জন্য ভিড়ভাট্টা। যে নিরালা মোড়, মিষ্টিপট্রি এলাকায় হাজার হাজার মানুষের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে ছিল সুনসান নীরবতা। লোকজন বাস্তবতা মেনে নিয়ে ঘরেই সীমিত আয়োজনে ইফতার সারছে টাঙ্গাইলের রোজাদার মানুষ।
প্রতিবছর ইফতার বাজারকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহর থেকে শুরু করে হাটবাজারের চিত্র বিকেল হলেই বদলে যেত। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সামনের ফুটপাতে ইফতার সামগ্রী সাজিয়ে নিয়ে বসত। বাহারি ইফতার সামগ্রীর বাজার বসত শহরের বিভিন্ন বাজার ও রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে। রাজপথ থেকে পাড়া-মহল্লার ফুটপাতেও বসে যেত ইফতার সামগ্রীর অস্থায়ী দোকান। উচ্চবিত্তরা ছুটে যেত শহরের অভিজাত হোটেলগুলোতে, মধ্যবিত্তরা ও নিম্নবিত্তরা ভিড় করত ফুটপাতের দোকানগুলোতে। এবার এ রকম কোনো কিছুই ঘটেনি। করোনা ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকায় এবার ইফতার বাজার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশ দপ্তর থেকে নির্দেশনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ইফতারির দোকান বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শহরের নিরালা মোড়ে পিয়াসী হোটেলের মালিক তারেক খান জুয়েল টিনিউজকে জানান, তিনি অনেক বছর ধরে রমজান মাসে হোটেলের সামনে ইফতার বিক্রি করে আসছেন। ১৫-২০টি আইটেম সাজিয়ে নিয়ে তিনি বসতেন। কিন্তু এবারের মতো অবস্থা আর কখনো আসেনি। হোটেলই বন্ধ রয়েছে। পুলিশ তাঁদের বসতে দিচ্ছে না।
বিকাল ৪টার পর জরুরি সেবা ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান খোলা নিষিদ্ধ থাকার কারণে টাঙ্গাইলে কোথাও ইফতারের বাজার বসতে পারেনি। তবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিছু ভাসমান দোকান দেখা গেছে খেজুর, কিছু ইফতারি ও ফল বিক্রি করতে। ভাসমান বেশ কিছু দোকানদাররা টিনিউজকে জানান, জীবনে এ রকম একটি রমজান আসবে, তা কখনো ভাবতেও পারেননি। সংসার চালানোর কোনো উপায় না পেয়ে তিনি কিছু ইফতারি বিক্রির চেষ্টা করছেন। কিন্তু একদিকে পুলিশ দাঁড়াতে দিচ্ছে না, আবার মানুষজন না থাকায় বিক্রিও হচ্ছে না। তাঁর এখন দিশাহারা অবস্থা। ফলে ইফতারকে কেন্দ্র করে অর্থনীতির যে চাকা ঘুরত, এবার সেটা স্থবির। অনেকের বাড়তি আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিবছর বাজারে ইফতারের অন্যতম উপাদান বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম চড়া থাকলেও এবার সেটা ছিল না। তবে ইফতার বাজার না থাকলেও টাঙ্গাইলের মুসলমানদের ঘরে ঘরে ইফতার সামগ্রী ঠিকই তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাড়তি ঝামেলা হলেও এর মধ্যে একটি ইতিবাচক দিকও দেখছেন পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ইফতারে ঘরে বানানো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার জন্য প্রতিবছর তাঁরা পরামর্শ দিলেও অন্যান্য বছর তেমন কার্যকর হতো না। কিন্তু এবার সেটা হচ্ছে, যা স্বাস্থের জন্য ইতিবাচক বলে তাঁদের অভিমত।
ইফতারের সময় টাঙ্গাইলের মসজিদগুলোতেও ইফতারের আয়োজন হতো। নামাজে মুসল্লির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে সেটাও বন্ধ। বিভিন্ন মসজিদে দেখা গেছে, যারা নামাজে গেছে তারা বাসা থেকেই ইফতার নিয়ে গেছে। রমজান এলে আতর, তসবিহ, টুপি ফেরি করে বিক্রি করার যে রীতি ছিল, এবার তারও দেখা মেলেনি। শহরের নিরালা মোড়, মিষ্টিপট্রি, নতুন বাসস্ট্যান্ড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, বেবিস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নেই বিক্রেতার হাঁকডাক। ক্রেতার ভিড়। রাস্তা ছিল ফাঁকা, জনমানুষশূন্য। এই প্রথম কোনো রোজা শুরু হলো ইফতার বাজার ছাড়াই।

ব্রেকিং নিউজঃ