টাঙ্গাইলে আমন ধান সংগ্রহে হয়নি লক্ষ্যমাত্রার এক চতুর্থাংশও পূরণ!

106

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে চলতি মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার এক চতুর্থাংশও পূরণ হয়নি। জেলার ১২টি উপজেলায় এবার ৫ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন আমন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু ধান সংগ্রহ করা গেছে মাত্র ৭৫৬ দশমিক ১৬০ মেট্রিক টন- যা লক্ষ্যমাত্রার ১৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ ভাগেরও কম পূরণ হয়েছে।
এবার সরকারিভাবে প্রতি কেজি আমন ধান ২৭ টাকা ও প্রতি কেজি চাল ৪০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়। ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। গত বছরের (৭ নভেম্বর) শুরু হয়ে গত (২৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ওই ধান-চাল সংগ্রহের অভিযান চালানো হয়। টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে এবার অ্যাপসের মাধ্যমে ধান কেনা হয়।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা টিনিউজকে জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হাট-বাজারে আমন ধানের দাম অনেকটা ভালো ছিল। এছাড়া সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে বেশি শুকানো ও বাড়তি পরিশ্রম করতে হয় এবং বাজারে নগদ মূল্য পাওয়ার চেয়ে অ্যাপসে একটু ঝামেলা মনে হয়। তাই কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রির চেয়ে বাইরে বিক্রি করতেই বেশি আগ্রহী ছিল।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র টিনিউজকে জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা থেকে ২৫৮ মে.টন ধান কেনার কথা থাকলেও সংগ্রহ হয়েছে ৫০ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন, সখীপুরে ৭৭২ মে.টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ দশমিক ৯৪ মে.টন, মির্জাপুরে ৩৪৮ মে.টনের বিপরীতে ৬৭ দশমিক ২৪ মে.টন, নাগরপুরে ১৫৮ মে.টনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ৩১ দশমিক ৬৫ মে.টন, দেলদুয়ারে ২২৩ মে.টনের মধ্যে ৯১ দশমিক ৯২০ মে.টন, কালিহাতীতে ৩৪৩ মে.টনের বিপরীতে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৭ মে.টন, ঘাটাইলে ৮৬২ মে.টনের মধ্যে ৫ দশমিক ৮০ মে.টন, মধুপুরে ৬৭১ মে.টনের মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক ৪৫ মে.টন, ধনবাড়ীতে ৫০৩ মে.টনের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৮ দশমিক ৩৫ মে.টন, গোপালপুরে ৬০৫ মে.টনের মাত্র শূন্য দশমিক ৫০ মে.টন এবং ভূঞাপুরে ২৬৪ মে.টনের বিপরীতে ৪৭ দশমিক ৭৩ মে.টন আমন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। একমাত্র বাসাইল উপজেলায় ৮০ মে.টনের পুরো ধান সংগ্রহ হওয়ায় শতভাগ অর্জিত হয়।
সূত্র টিনিউজকে আরও জানান, আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও প্রত্যেক উপজেলায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় উল্লেখিত সময়ে ১৬ হাজার ৬২২ দশমিক ১৪০ মে.টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এবং তা সম্পূর্ণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তারুটিয়া গ্রামের কৃষক ইসমাইল, মাসুমসহ একাধিক কৃষকরা টিনিউজকে জানান, সরকারি খাদ্যগুদামে বিক্রি করতে গেলে ধান বেশি শুকাতে হয়। এতে শ্রম, সময় ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু হাট-বাজারে বা বাড়ি থেকে বিক্রি করতে কোন কিছুই করার প্রয়োজন হয়না। পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যায়। তারা টিনিউজকে আরও জানায়, এবার মৌসুমের শুরু থেকে প্রকারভেদে আমন ধান ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাড়ির কাছে হাট-বাজার থাকায় সেখানেই তারা ধান বিক্রি করেছেন। আবার পাইকাররা বাড়িতে এসেও ওই দামে ধান কিনে নিয়ে গেছে। এ কারণে তারা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহী হননা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামাল হোসেন টিনিউজকে জানান, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ ও মজুত করা হয়। চলতি বছর বাইরে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি না করে হাট-বাজারে বিক্রি করেছেন। এজন্য ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র পূরণ হয়নি। তবে চাল সংগ্রহে খাদ্য বিভাগ শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে।

ব্রেকিং নিউজঃ