টাঙ্গাইলে আমনের বাম্পার ফলন ॥ কৃষকরা ধান কাটায় ব্যস্ত

83

এম কবির ॥
টাঙ্গাইল জেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমন ধানের চাষ হয়েছে। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। বিগত মৌসুমে ধানের দাম ভাল পাওয়ায় এবং কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই এ সফলতা এসেছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে ধান কাটা। কৃষকরা এখন জমির ধান কেটে ঘরে উঠানোর কাজে ব্যস্ত।




আমন ধানে ভরে গেছে টাঙ্গাইলের সকল উপজেলার ফসলের মাঠ। যতদূর চোখ যায় মাঠ জুড়ে শুধু সোনালি ধান। চারদিকে মৌ মৌ গন্ধ। এবার জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা-মাড়াই এর কাজ। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অতিবৃষ্টির কারণে আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় আশায় বুক বাধছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, ধান কাটা। হাট-বাজারেও নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে ধানের দামও ভালো। তাছাড়া আগাম ধান কাটার পর আবার একই জমিতে তেল জাতীয় ফসল সরিষা চাষ করতে পারবেন কৃষকরা। এ কারনে কৃষকের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা দিয়েছে। মাঠের যে দিকে চোখ যায়, সেদিকেই সবুজের সমারোহ। ধানের চারা থেকে বের হওয়া শিষ দোল খাচ্ছে বাতাসে। তা দেখে মন ভরে উঠছে কৃষকের। অনেকেই আবার খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর ভালো ফলনের আশা করছেন ধনবাড়ীর কৃষকেরা।




ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। সরকারিভাবে প্রণোদনার মাধ্যমে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। মাঠে গিয়ে দেওয়া হচ্ছে পরামর্শ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আবাদ করা জমি ধানের শিষে ভরে গেছে। আবার কিছু ধানে শিষ আসতে শুরু করেছে। কৃষকেরা পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করে পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ফসলের বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা দমনে পোকা খাদক পাখি পাচিংয়ে বসে খাচ্ছে ক্ষতিকর পোকা। কৃষকেরা করছেন খেতের পরিচর্যা।




পাইস্কা ইউনিয়নের দরিচন্দবাড়ীর এলাকার কৃষক বদিউজ্জামানটিনিউজকে বলেন, গত বছর ধানের ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর উন্নত জাতের ধান ৮৬ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে গতবারের তুলনায় এবার বেশি ফলন পাব বলে আশা করছি। অপর এক কৃষক ওয়াহেজ আলী টিনিউজকে বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করছে। ৬০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছি। ধানের শিষের মান এবার বেশ ভালো। গত বছর ধানের ভালো দাম থাকায় উপজেলার কৃষকদের ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে এসে পরামর্শ দিচ্ছেন। সদর উপজেলার হুগড়া গ্রামের আলাল হোসেন টিনিউজকে বলেন, নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের দাবী এবারও সরকারীভাবে যেন তাদের কাছ থেকে সরাসারি ধান কেনা হয়। এতে জেলার কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।




ধনবাড়ী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ টিনিউজকে বলেন, ধান খেতের কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। ক্ষতিকর পোকা দমনে কৃষকদের পাচিং পদ্ধতি ব্যবহারে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, বোরো ধানের আবাদ এবার খুবই ভালো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। কৃষক মাঠ দিবসের মাধ্যমে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কৃষকদের আরও সচেতন করা হবে। যেন কৃষকেরা অধিক লাভাবান হতে পারেন।




টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার টিনিউজকে জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৯৫ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবাদ হয় ৯৮ হাজার ৪শ’ ৭২ হেক্টর জমিতে। এখান থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। বীজ রোপন থেকে শুরু করে ফসল ঘরে উঠা পর্যন্ত কৃষকদের সব ধরনের সপরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষি বিভাগ জানায়, ঘূর্ণীঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে সামান্য কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সরকারীভাবে পুর্নবাসন করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ