টাঙ্গাইলে অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি কমতে শুরু করেছে

85

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি কমতে শুরু করেছে। এর আগে ইতোমধ্যে জেলার ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। ফলে গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এক দিকে ঘর-বাড়িতে পানি উঠছে অন্যদিকে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব, গো-খাদ্যের সংকট, কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে সর্দি-জ্বর দেখা দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সব নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি পোড়াবাড়ী পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, ঝিনাই নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, ধলেশ্বরী নদীর পানি এলাসিন পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে বিভিন্নস্থানে নদী ভাঙনও দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা, গাবসারা ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী, দুর্গাপুর, সল্লা ও দশকিয়া ইউনিয়ন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া, কাকুয়া, কাতুলি ও মাহমুদনগর ইউনিয়ন, নাগরপুরের ভাড়রা, সলিমাবাদ ও দপ্তিয়র ইউনিয়ন, বাসাইল উপজেলার সদর, কাশিল ও ফুলকী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে। ওইসব এলাকার বিদ্যালয় প্লাবিত হয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

রোববার (১৯ জুন) ভোরে কালিহাতী উপজেলার সল্লা ও হাতিয়া বাঁধের কিছু অংশ আর আনালিয়াবাড়ী সড়কের পাকা সলিং ভেঙে ফসলি জমি-ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও শনিবার (১৮ জুন) দিনগত রাতে বাসাইল পৌর এলাকার দক্ষিণ পাড়া-বালিনা সড়কের একটি অংশ পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে পৌর এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

মগড়া ইউনিয়নের হাসেম মিয়া, দুর্গাপুরের সোহাগ খান, গোবিন্দাসীর নূর হুসাইন, চরপৌলির তানভীরসহ বন্যা কবলিতরা টিনিউজকে বলেন, রাতের মধ্যে হু হু করে পানি বেড়ে ঘর-বাড়ি হঠাৎই প্লাবিত হয়ে পড়ছে। বাড়ি-ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আগেই ঘরে পানি ঢুকছে। ফলে গৃহস্থরা গবাদিপশু নিয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে আমাদের। আবুল হোসেন মিয়া টিনিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের এলাকায় কোন জনপ্রতিনিধি আসে নাই। আমরা কোন সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছি না।

কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই আকন্দ, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন চকদার টিনিউজকে জানান, হু হু করে পানি বাড়ছে। বাড়ি-ঘরে পানি উঠে চরম দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ। তারা নিজের সাধ্য অনুযায়ী যতটা পারছেন সাহায্য করছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত সরকারি কোন সহায়তা বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে পৌঁছেনি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়া বন্ধ হয়েছে। এর আগে যে হারে পানি বাড়ছিল তাতে বন্যার ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকতো না। তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বরাবরের চেয়ে আরও বেশি সতর্ক রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

 

ব্রেকিং নিউজঃ