টাঙ্গাইলের সাবেক মেয়র মুক্তির জামিন ১০ বারের মতো নামঞ্জুর

249

আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খানের মুক্তির জামিন আবেদন ১০ বারের মতো নামঞ্জুর হয়েছে। সোমবার (১৯ জুলাই) টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ছোট ভাই সহিদুর রহমান খান মুক্তি। তিনি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান টিনিউজকে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় গত বছরের (২ ডিসেম্বর) আত্মসমর্পণের পর আদালত সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আরও ৯ বার তাঁর জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেন। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সহিদুর রহমান খান মুক্তির পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জামিন আবেদন করেন। আদালত সোমবার (১৯ জুলাই) শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
সহিদুর রহমান খান মুক্তির পক্ষে আবদুল বাকী মিয়া, আরফান আলী মোল্লা, শফিকুল ইসলাম, আনন্দ মোহন আর্য্য শুনানিতে অংশ নেন। তাঁরা যেকোনো শর্তে সহিদুর রহমান খান মুক্তর জামিন মঞ্জুরের দাবি জানান। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান, বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল গফুর ও রফিকুল ইসলাম জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।
জান যায়, বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়া বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিগত ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দু’জনকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে দু’জনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এই হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তাঁর তিন ছোট ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। আমানুর রহমান খান রানা বিগত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এদিকে সহিদুর রহমান খান মুক্তি গত বছরের (২ ডিসেম্বর) আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর অন্য দুই ভাই এখনো পলাতক রয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ