টাঙ্গাইলের সাবেক মেয়র মুক্তির জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর

343

আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি ও সাবেক পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দায়িত্বে থাকা দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাউদ হাসান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। সহিদুর রহমান খান মুক্তি সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ছোট ভাই।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মনিরুল ইসলাম খান টিনিউজকে বলেন, গত (২ ডিসেম্বর) আত্মসমর্পণের পর আদালত সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তাঁর পক্ষে আইনজীবী আবদুল বাকি মঙ্গলবার (৪ মে) ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে আদালতে জামিন আবেদন করেন। তাঁরা যেকোনো শর্তে সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন মঞ্জুরের দাবি জানান। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। পরে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। এ নিয়ে ৬ বার সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলো বলে এপিপি মনিরুল ইসলাম খান জানান।
সহিদুর রহমান খান মুক্তি ঘাটাইল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ছোট ভাই। গত (২ ডিসেম্বর) আত্মসমর্পণের পর আদালত সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ফারুক হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিগত ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিছুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তাঁর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাঁকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। তারপর তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান।
তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ এই মামলায় আমানুর রহমান খান রানা, তাঁর তিন ছোট ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে বিগত ২০১৬ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ ৬ বছরেরও বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর সহিদুর রহমান খান মুক্তি গত বছরের (২ ডিসেম্বর) আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে সে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ