টাঙ্গাইলের মার্কেটগুলোতে মানুষের ঢল ॥ নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই

96

হাসান সিকদার ॥
লকডাউনের মাঝে মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার পর থেকেই মানুষের উপচেপড়া ভিড় টাঙ্গাইলের বিপণিবিতানগুলোতে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত করোনা ভাইরাসকে উপেক্ষা করে মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, ঝুঁকি নিয়েই এসেছেন ঈদ আনন্দের জন্য। তবে বিক্রিতে মোটেও সন্তুষ্ট নন ব্যবসায়ীরা। নেই দম ফেলার সময়, এ দোকান থেকে সে দোকানে ছুটে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা। তবু মন যেন ভীষণ ভারি, কেনার বাদ রয়েছে কত কি! মানুষের এই আচরণ দেখে মনে হবার জো নেই দেশ রয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে।
বর্তমানে টাঙ্গাইলের মার্কেটগুলোর পরিস্থিতি বিষয়ে সচেতন ব্যক্তিরা টিনিউজকে বলেন, করোনা বড় বিষয় না। মার্কেট করাই বড় বিষয়। প্রতিটি মার্কেট এখন করোনা ভাইরাস আক্রান্তের ডিপো হয়ে গেছে। এখন যারা অসচেতনতার সাথে মার্কেটে ঘোরাঘুরি করছে। চুটিয়ে দলবেধে মার্কেট করছে, তারা ঠিক ঈদের পর অর্থ্যাৎ ১৪ দিন পর করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ার বেশী সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মার্কেটের ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন না।
টাঙ্গাইলের ফুটপাততো বটেই বিপণিবিতান মার্কেটগুলো ঘিরে মানুষ আর মানুষ। এই ছবি দেখে স্পষ্টই ধারণা করা যায় সংক্রমণের ঝুঁকি যেন ফিকে হয়ে গেছে ঈদ কেনাকাটার কাছে। সামাজিক দূরত্বতো দূরের কথা স্বাস্থ্যবিধিকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়েই কাটছে মানুষের সময়। তারপরও চলমান বিক্রি-বাট্টায় খুব একটা খুঁশি নন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের অসচেতনতায় আছে ফের দোকান বন্ধের শঙ্কা। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মার্কেট ও শপিং মল খোলার ঘোষণা দেয় সরকার। শুরুতে ১০ থেকে ৫ টা পর্যন্ত বলা হলেও পরে; সময় বাড়িয়ে এখন রাত ৮টা পর্যন্ত। যদিও সেই সময়টা যেন তোলা রয়েছে কেবলই কাগজে কলমে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, লকডাইনের মধ্যে দোকান অনেক দিন বন্ধ ছিল বেচেকেনা করতে পারি নাই। সরকার আবার দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে এতে আমরা অনেক খুশি। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পোশাক বিক্রি করছি। যথেষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে।
শহরের সবুর খান মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা জাহিদ খান টিনিউজকে বলেন, করটিয়া থেকে মার্কেট করতে এসেছি। মার্কেটে এতো ভিড় দাঁড়ানোর জায়গা নাই। করোনার ঝুঁকি নিয়েও মার্কেট করতে হচ্ছে। হিরা সুপার মার্কেটে আসা ক্রেতা মাহমুদ ও জিয়াসমিন দম্পত্তি টিনিউজকে বলেন, আমি কালিহাতী থেকে মার্কেট করতে শহরে এসেছি। আর কয়েকদিন পর ঈদ সে উপলক্ষে মার্কেট করছি। সমবায় সুপার মার্কেটে আসা আলিম মিয়া টিনিউজকে বলেন, আমি ছিলিমপুর থেকে মার্কেট করতে এসেছি। মার্কেটের ভিতরে ও বাহিরে এতো ভিড় যে দোকানে যেতে ভয় লাগছে। কারো মধ্যে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানি, তাহলে তো করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ