টাঙ্গাইলের মানুষ ৭-৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত

99

জাহিদ হাসান ॥
টাঙ্গাইলে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ পাগলপ্রায়। সরকারি ঘোষণা মতে এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও প্রতিদিন ৭/৮ ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ বণ্টনে বৈষম্য থাকায় এই অবস্থা হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

এছাড়া টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-স্টেশনে বিদ্যুতের চাহিদা ৮০ এমভিএ। যার বিপরীতে বিদ্যুৎ মিলছে ৪০ থেকে ৫০ এমভিএ। ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন এলাকায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা আবার কোনো কোনো সময় আরও বেশি সময় ধরে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা।

 

এদিকে বর্তমানে আমন ধান রোপণের ভরা মৌসুম চলছে। আবার বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ পাম্প দিয়ে মাছচাষ করছেন চাষিরা। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও মাছচাষিরা। বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে সাধারণ মানুষ যেমন কষ্ট পাচ্ছেন। তেমনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনারও ব্যাঘাত ঘটছে। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।

বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধি জনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইল জেলাতেও দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপণীবিতান, কাঁচাবাজার ইত্যাদি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে এবং এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে জেলার ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশ মেনেই তাদের দোকানপাট পরিচালনা করছেন। এরপরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন বন্ধ থাকছে। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, গত কয়েকদিন ধরে রাত ১০টার পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কয়েক দফায় বন্ধ রাখা হচ্ছে। সারা দিনেও এমন সমস্যার কারণে পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটছে অনেক। ছাত্র মিলন হোসেন টিনিউজকে জানান, সন্ধ্যার পর ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বাকি বিল্লাহ টিনিউজকে জানান, রাত নেই, দিন নেই, ইচ্ছামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করছে। সকাল থেকে রাত অবধি অসংখ্যবার বিদ্যুৎ থাকছে না। তাছাড়া রাত থেকে সকাল অবধিও একই ঘটনা ঘটে। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে এমনিতেই জনজীবন বিপর্যস্ত, এর ওপর বিদ্যুৎ না থাকার চরম যন্ত্রণা। রাতে যেসময় মানুষ একটু শান্তিতে ঘুমাবে, ঠিক সে সময়েই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় আরামের ঘুম হারাম হয়ে যায়।

 

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল গ্রামের মাছচাষি হাসান আলী ও কায়সার মিয়া টিনিউজকে জানান, বিদ্যুতের কারণে মাছের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। জেনারেটর চালিয়ে মাছচাষ করে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। দাইন্যা গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম ও মিনারুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, একদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট অন্যদিকে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ধানের শীষ বের হচ্ছে না। বের হলেও প্রচুর পরিমাণ ধানে চিটা হচ্ছে। যেখানে বিঘাতে ৩০ থেকে ৩৫ মণ ধান হওয়ার কথা সেখানে ১৫ থেকে ২০ মণ ধান হবে। একই গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন টিনিউজকে জানান, ভ্যাপসা গরমে জমিতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় বার বার সার ও কীটনাশক দিয়ে কাজ হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা টিনিউজকে জানান, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির ফলে টাঙ্গাইলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং হচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজঃ