টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৭৬১৯ জনের করোনার নমুনা সংগ্রহ

27

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় মঙ্গলবার (২৩ জুন) নতুন করে কোন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের রেজাল্ট আসেনি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৪১ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। করোনায় সুস্থ হয়েছেন ১৫৫ জন। আর মির্জাপুরে ৩, ঘাটাইলে ২, ধনবাড়ীতে ১, দেলদুয়ার ১, টাঙ্গাইল সদরে ১, সখীপুরে ১ ও মধুপুরে ১ জনসহ মোট ১০ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৭৬১৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৫০ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ৯৪ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৮৩ জনকে। ৮৫৩টি নমুনার রেজাল্ট এখনো পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জেলায় মোট ৪৪১ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭ জন। টাঙ্গাইলের বাহিরে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ জন। আক্রান্ত বাকি ২৫৩ জন ঢাকা, ময়মনসিংহ হাসপাতালে ও নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ৪৪১ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মির্জাপুরে ১২৪, টাঙ্গাইল সদরে ৭০, নাগরপুরে ৩৬, কালিহাতীতে ৩৫, মধুপুরে ৩১, দেলদুয়ারে ২৯, গোপালপুরে ২৫, ধনবাড়ীতে ২৩, ভূঞাপুরে ২২, ঘাটাইলে ২১, সখীপুরে ১৬, ও বাসাইলে ৯ জন রয়েছে। এদের মধ্যে ১৫২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭ জন। টাঙ্গাইলের বাহিরে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ জন। আক্রান্ত বাকি ২৫৩ জন ঢাকা, ময়মনসিংহ হাসপাতালে ও নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ১১ জন মারা গিয়েছে। নিহতরা হলো- ঘাটাইলে মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, মির্জাপুরে রেনু বেগম, শামসুল আলম, সমসের আলী, আর একজনের নাম এখনো জানা যায়নি, ধনবাড়ীতে আব্দুল করিম ভুইয়া, টাঙ্গাইল সদরের পৌর শহরের আদালত পাড়ার আলী কমপ্লেক্রোর মালিক আব্দুর রাজ্জাক , দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের সানবাড়ীতে এক জন, সখিপুরের গার্মেন্স কর্মী আব্দুল হালিম ও মধুপুরের একজন ।
এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ১৩৭৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ও হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১১ হাজার ৮২৮ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১ হাজার ৯৬৩ জন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি। সোমবার (২২ জুন) পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৬ হাজার ৪৯১টি এবং মাস্ক ৩ হাজার ৯০৮টি। সোমবার (২২ জুন) পর্যন্ত জেলায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৫০ পরিবারের মধ্যে ২৪৮৫ মে.টন চাল ও ৬৫ হাজার ৬৯৩টি পরিবারের মধ্যে নগদ ১ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ২১ হাজার ৫১২ পরিবারকে ৩৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

ব্রেকিং নিউজঃ