টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা উপ-নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে প্রার্থীরা ॥ প্রচারণা জমে উঠেছে

244

স্টাফ রিপোর্টার ॥
আসন্ন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচনের ভোট যুদ্ধে নেমেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। আগামী (২০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচন। ভোটের মাঠে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা জমে উঠেছে। নানা অপপ্রচার, ভয়ভীতি আর দলীয় প্রতীকের নির্বাচন হওয়া স্বত্তেও নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী। প্রার্থী ও ভোটারদের দাবি অবাধ, সুষ্ঠু আর নিরপেক্ষ নির্বাচন।
টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র টিনিউজকে জানায়, আগামী (২০ অক্টোবর) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। ২৮ হাজার ভোটারের ইউনিয়নটির কেন্দ্র সংখ্যা ১০টি। চলতি বছরের গত (২৮ জানুয়ারি) অসুস্থতা জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমীন খান খোকন। পরে গত (১৫ সেপ্টেম্বর) চেয়ারম্যান শূণ্য এ পরিষদের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে জেলা নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইউনিয়নের সদ্য প্রয়াত ও তিনবারের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন খান খোকনের ছেলে তোফায়েল আহাম্মেদ। ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়নের আরেক প্রয়াত ও দুইবারের চেয়ারম্যান এসএম আবুল কাশেমের ছেলে এসএম মারুফ হাসান সুমন। এছাড়াও বিএনপি মনোনিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ শাহিন আর আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবুল হোসেন সরকার আবু।
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা যায়, ইউনিয়নের নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক তৎপর চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সমর্থকরা। কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্য রাত অবধি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের দাবি অবাধ, সুষ্ঠু আর নিরপেক্ষ নির্বাচন। নির্বাচনী এলাকা জুড়ে প্রতিটি প্রার্থীর ব্যাপক প্রচার প্রচারনা দেখা গেলেও শুধু বিএনপির মনোনিত প্রার্থীর কিছু পোস্টার ঝোলানো ছাড়া নেতাকর্মীদের মাঠের প্রচারণায় দেখা যায়নি। এ নিয়ে রমজান আলী, আমির হোসেন, খোদেজা বেগমসহ কয়েকজন ভোটার টিনিউজকে বলেন, উন্নয়ন আর গ্রামবাসির বিপদে আপদে যাকে সব সময় পাওয়া যাবে এমন প্রার্থীকেই নির্বাচিত করবেন তারা। তাদের দাবি অবাধ, সুষ্ঠু আর নিরপেক্ষ নির্বাচন যেন হয়।
অভিযোগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম মারুফ হাসান সুমন টিনিউজকে বলেন, গত নির্বাচনে আমার বাবা প্রয়াত চেয়ারম্যান এসএম আবুল কাশেম বিজয়ী হওয়া স্বত্তেও তাকে ফেল করানো হয়েছিল। এরপরও নির্বাচন কমিশনের দেয়া অবাধ, সুষ্ঠু আর নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার আশ্বাসের উপর বিশ্বাস রেখে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। বিজয়ী হলে তার বাবা ও ইউনিয়নের প্রয়াত চেয়ারম্যানের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করবেন। তিনি ইউনিয়নের আউলটিয়া, হাতিলা, পয়লা, সারুটিয়া আর ঘারিন্দা এ ৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করেছেন।
আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন সরকার (আবু) টিনিউজকে বলেন, গত নির্বাচনেও আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। ওই নির্বাচনে আমাকে ১৮৬ ভোটে ফেল দেখানো হয়েছে। তবে আমার বিশ্বাস আমি বিজয়ী হয়েছিলাম। এবার নির্বাচন কমিশনের দেয়া অবাধ, সুষ্ঠু আর নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাসে আমি আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। ভোটারদের যে সমর্থন পেয়েছি তাতে আমার বিশ্বাস আমি বিজয়ী হব। বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সুদ, ঘুষ, ধর্ষণ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি ইউনিয়ন উপহার দিব। এ ইউনিয়নের হাতিলা, পয়লা, সারুটিয়া আর ঘারিন্দা এই ৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ শাহীন টিনিউজকে বলেন, নির্বাচনী মাঠের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। নিরপেক্ষ ও ভোট কেন্দ্র দখলমুক্ত হলে আমি জয়লাভ করবো। ঘারিন্দা, বীরনাহালী, গোসাইর জোয়াইর, সারুটিয়া কেন্দ্রগুলো ঝুকিপূর্ণ।
আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তোফায়েল আহাম্মেদ টিনিউজকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কারচুপির কোন সুযোগ নেই। যারা এমন অপপ্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন সেটি ভিত্তিহীন। অবাধ, সুষ্ঠু আর নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অবাধ, সুষ্ঠু আর নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ.এইচ.এম কামরুল হাসান টিনিউজকে বলেন, ভোট কেন্দ্রের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দুই প্লাটুন বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার জন্য থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট।

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ