টাঙ্গাইলের কর্মচঞ্চল কুমারপাড়া পূজায় পসরা সাজানোর অপেক্ষা

75

হাসান সিকদার ॥
টাঙ্গাইলে মৃৎশিল্পের সেই সুদিন আর নেই। কুমাররা বাপ-দাদার পেশা বদলে অন্য পেশা গ্রহণ করছেন। আর যারা ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে আছেন তাদের অনটনের জীবন। টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে বছরের কোন কোন সময় অপেক্ষাকৃত ভাল কাটান তারা। বিশেষ করে যখন যেখানে লোকজ মেলার আয়োজন করা হয় সেখানেই তারা ছুটে যান। নিজেদের তৈরি পণ্যের পসরা সাজান। গ্রামে তো বটেই, শহরেও নানা উপলক্ষে এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। পহেলা বৈশাখের মেলার কথা আমরা জানি। বাংলা নববর্ষ বরণের মুহূর্তে মৃৎশিল্প সামগ্রীর আলাদা চাহিদা লক্ষ্য করা যায়।
এর বাইরে বড় উপলক্ষ বলা চলে দুর্গোৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় টাঙ্গাইলে কম বেশি মেলার আয়োজন চোখে পড়ে। যুগ যুগ ধরে মন্ডপ ঘিরে এমন মেলা আয়োজন করা হয়ে আসছে। আগামী (১১ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের দুর্গোৎসব। পাঁচদিনের আয়োজন ঘিরে টাঙ্গাইলে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তারও আগে থেকে কাজে নেমে গিয়েছিলেন মৃৎশিল্পীরা। অন্য সময় পরিবারের দু’একজন কাজে হাত লাগান। পূজার আগে মোটামুটি সবাই এ কাজে যোগ দেন। এভাবে ঘরে ঘরে তৈরি হয় টেপাপুতুল, শখের হাঁড়ি, নানা রকমের জীবজন্তু ও খেলনা সামগ্রী। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। একদিকে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ, অন্যদিকে মৃৎশিল্পের নিদর্শন। সব মিলিয়ে জমজমাট কুমারপাড়া।
মৃৎশিল্পের জন্য টাঙ্গাইর সদর উপজেলা খুব বিখ্যাত। খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, পূজার মেলা সামনে রেখে সেখানকার বিভিন্ন গ্রামে তৈরি হচ্ছে মৃৎশিল্প সামগ্রী। সদর উপজেলার করটিয়া, বাসাখানপুর, এনায়েতপুর ও তারুটিয়া এলাকায় দিন রাত কাজ করছেন শিল্পীরা। ধমেন্দ্র চন্দ্র পাল নামের এক শিল্পী টিনিউজকে জানান, দুর্গাপূজার এখনও বাকি থাকলেও তাদের প্রস্তুতি মোটামুটি শেষ। মাটির পুতুল খেলনা বাসন-কোসন গৃহসজ্জা সামগ্রী ইত্যাদি তারা তৈরি করেছেন। পূজার মেলায় এসব বিক্রি করা হবে। করোনাকালে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে পূজার মেলায় কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে চান বলে জানান তিনি। দুর্গাপূজা পরে যেসব মেলা আয়োজন করা হবে সেসব মেলাতেও তারা অংশ নেবেন বলে জানান প্রবীণ এই মৃৎশিল্পী।
প্রতিমা রাণী নামের এক নারী শিল্পী টেপা পুতুলের আদি ফর্মটি নিয়ে কাজ করছেন। একেবারে ট্রাডিশনাল পুতুল গড়ছেন মেলার জন্য। কথা প্রসঙ্গে টিনিউজকে বললেন, করোনার সময় তো কাজ কাম কিছু ছিল না। তাই পুতুল তৈরি করেছি। বিক্রি তেমন করতে পারিনি। তবু তৈরি করেছি। কারণ সামনে পূজা। পূজার সময় মেলা বসবে। সেখানে বিক্রি করব বলে জমাচ্ছিলাম। পাশাপাশি এখনও তৈরি করছি। বাড়ি থেকেও এখন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে আশপাশের কয়েকটি মেলায় তারা নিজেরা অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।

ব্রেকিং নিউজঃ