টাঙ্গাইলের এক লাখ পরিবার হেলথ কার্ড পাচ্ছে

125

Health20150812110823স্টাফ রিপোর্টারঃ

দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি নামে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করছে সরকার। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইলের তিন উপজেলায় এক লাখ দরিদ্র পরিবারের মধ্যে হেলথ কার্ড বিতরণ করা হবে। হেলথ কার্ডপ্রাপ্তরা বিনামূল্যে বছরে সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকার ৫০টি রোগের পূর্ণ চিকিৎসা পাবেন বলে জানা গেছে।
রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এসব তথ্য জানান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম ও গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের প্রাদুর্ভাব এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে চিকিৎসা ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র মানুষ আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, নির্দিষ্ট সূচকে পাইলট প্রকল্প এলাকায় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী, মধুপুর ও ঘাটাইল উপজেলার এক লাখ পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকে হেলথ কার্ড পাবেন। কার্ড ব্যবহার করে পরিবারের প্রত্যেক সদস্য চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারবেন এবং বিনামূল্যে বছরে সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকার ৫০টি রোগের পূর্ণ চিকিৎসা পাবেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের হিসাব ব্যবহার করে দেশের ২৫ শতাংশ মানুষকে সরকার এ সুবিধা দেবে। ২০৩২ সালের মধ্যে দেশের সব মানুষ এ সুবিধার আওতায় আসবেন। চিকিৎসা ব্যয়, দরিদ্র মানুষ নির্বাচন, স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে কয়েকটি গবেষণা পরিচালনা করে এই পাইলট প্রকল্পের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্যমান রোগের ধরন বিশ্লেষণ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাযোগ্য ৫০টি রোগ চিকিৎসার একটি প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যেকটি রোগ চিকিৎসার ব্যয় নির্ধারণের পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তা ও ট্রিটমেন্ট প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে একটি পৃথক সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেলের মাধ্যমে দরিদ্র রোগীদের চিহ্নিত করে হেলথ কার্ড প্রদান, কার্ডধারী রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে সহায়তা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী হাসপাতালের অর্থ পরিশোধে সহায়তা করা হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন নুরুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিং নিউজঃ