শনিবার, সেপ্টেম্বর 26, 2020
Home টাঙ্গাইল টাকা আত্মসাতের অভিযোগে টাঙ্গাইলে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

টাকা আত্মসাতের অভিযোগে টাঙ্গাইলে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥
প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে টাঙ্গাইল অগ্রনী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন ও সহকারি শিক্ষক লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সয়া চাক্তা গ্রামের অগ্রনী উচ্চ বিদ্যালয়ের গর্ভনিং বডির সদস্য শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলায় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। আদালত থেকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বিগত ২০১৯ সালের (১১ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানের ৩২ নং সভার ৩ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভ্যন্তরীণ অডিট উপ-কমিটি করা হয়। বিদ্যালয়ের তিনজন সহকারি শিক্ষক ও দুইজন অভিভাবক সদস্যদের অডিটের দায়িত্ব দেয়া হয়। অডিট শেষে সেই অভ্যন্তরীণ অডিট উপ-কমিটি চলতি বছরের (৫ জানুয়ারি) প্রতিষ্ঠানে গর্ভনিং বডির সভাপতির কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। অডিট প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন ও সহকারি শিক্ষক লুৎফর রহমানের ১২ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উঠে আসে।
অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছর হইতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অধিকাংশ ভাউচার পাশ করা হয়নি। অসমাঞ্জস্য খরচ, ভাউচারে গ্রহনকারী ও প্রদানকারীর নাম অনুপস্থিত। বিগত ২০১৩ সাল হতে ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত দৈনিক আয় ও খরচের বই পাওয়া যায়নি। বিগত ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ক্যাশ বইতে খরচ লিপিবদ্ধ থাকলেও আয়ের বিবরণ নেই। বিগত ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বার্ষিক বাজেট পাওয়া যায়নি। বিগত ২০১৩ সাল হতে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত মাসিক, ত্রৈমাসিক, বাৎসরিক কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হিসাব নিকাশ পাওয়া যায়নি। প্রশংসা পত্র, ভর্তি ফরম, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি।
বিগত ২০১৪ সালের (৬ নভেম্বর) থেকে ২০১৭ সালের (১৩ মে) পর্যন্ত বিদ্যালয়ের কোন রেজুলেশন বই পাওয়া যায়নি। বর্তমান প্রধান শিক্ষক বিগত ২০১৯ সালের (২৬ আগস্ট) অভিযুক্ত শিক্ষকদ্বয়ের কাছে বিদ্যালয়ের নথিপত্র, আদায় বহি, বিল ভাউচারসহ অন্যান্য তথ্য সম্বলিত কাগজ পত্র জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে গত বছরের (৩০ নভেম্বর) শিক্ষার্থী সংখ্যা, বেতন আদায়ের রশিদ বহি ও ফিসের বিল কপি জমা দেয়ার জন্য বলা হয়। গত বছরের (১০ ডিসেম্বর) বেতন আদায়ের বই, চলতি বছরের (৮ জুলাই) পর্যন্ত আয় ব্যায়ের হিসাবসহ বিভিন্ন কাগজ পত্র ও বিগত ২০১৫ সালের অবশিষ্ট ৮৮ হাজার ২২৭ টাকা, বিগত ২০১৬ সালের অবশিষ্ট ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬০২ টাকা, বিগত ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত অবশিষ্ট ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭১ টাকা ছাড়াও ৬ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ টাকা আত্মসাত করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষকদ্বয়। যার ফলে বিদ্যালয়টি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
সহকারি শিক্ষক লুৎফর রহমান জানান, এটি সম্পূর্ণই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিদ্যালয়ের কোন টাকা আত্মসাৎ করেননি। অপর সহকারি প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন জানান, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি মিথ্যা বানোয়াট। তার প্রতিপক্ষরা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে অগ্রনী উচ্চ বিদ্যালয়ের গর্ভনিং বডির সদস্য সামস্ উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের আমানত যারা রক্ষা করতে পারেনি। তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানান তিনি।

ব্রেকিং নিউজঃ