জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনে ক্রীড়ামোদীদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনা

126

3ফাহাদ শাওনঃ
টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে ৬ নভেম্বর শুক্রবার বিকেল থেকে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজকরা। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় অংশ নিবে ঢাকার ওয়ারি ক্লাব ও উত্তর বারিধারা ক্লাব। দীর্ঘ ১১ বছর পর জেলার সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার খবরে জেলার খেলোয়ার, ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনা দেখা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল আয়োজনের প্রথম কমিটির অন্যতম সদস্য, জেলার সফল ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদ একেএম আব্দুল হামিদ ফরিদ জানান, ক্রীড়ামোদী টাঙ্গাইলের তদানিন্তন জেলা প্রশাসক মরহুম রেজাউল ইসলাম টাঙ্গাইল জেলার ফুটবলের মান উন্নয়নের জন্য ১৯৮০ সালে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট নামে ফুটবল খেলার আয়োজন করেন। টুর্নামেন্টকে আকর্ষনীয় ও জনপ্রিয় করার জন্য ঢাকা প্রথম বিভাগ লীগের প্রথমসারির সবকটি ক্লাব দলগুলোকে নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। ঢাকার বাইরে আবাহনী, মোহামেডান, ব্রার্দাস, মুক্তিযোদ্ধার মতো ক্লাবগুলোকে নিয়ে টাঙ্গাইল মাঠে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট সারাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এতে করে টাঙ্গাইল জেলার ফুটবল খেলার মান অনেক বৃদ্ধি পায় এবং ব্যাপক জাগরণ ঘটে। আমাদের আয়োজনের উদ্দেশ্যও সফলতা পায়। কিন্তু পরবর্তীতে টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি আয়োজকরা। ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা আবাহনী লিমিটেড ও কালেক্টরিয়েট ক্লাব। ১৯৮১ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা আজাদ স্পোটিং ক্লাব ও রানার্সআপ ঢাকা ফরাশগঞ্জ ক্লাব। ১৯৮২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ড ক্লাব ও রানার্সআপ ঢাকা রহমতগঞ্জ ক্লাব। ১৯৮৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা কাষ্টমস এন্ড এক্সসাইজ ক্লাব ও রানার্সআপ ঢাকা লালবাগ ক্লাব। ১৯৮৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা কাষ্টমস এন্ড এক্সসাইজ ক্লাব ও রানার্সআপ টাঙ্গাইল ইষ্টএন্ড ক্লাব। এর চার বছর পর ১৯৮৯ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা কাষ্টমস এন্ড এক্সসাইজ ক্লাব ও রানার্সআপ হয় ঢাকা ব্রার্দাস ইউনিয়ন ক্লাব। এক বছর পর ১৯৯১ সালে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা আবাহনী লিমিটেড ও ব্রার্দাস ইউনিয়ন ক্লাব। এরপর দীর্ঘ ১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ২০০৪ সালে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র ও রানার্সআপ হয় ঢাকা আবাহনী লিমিটেড ক্লাব। তিন ভরি স্বর্নের তৈরি কাপটি বর্তমানে জেলার ট্রেজারিতে রক্ষিত রয়েছে।
জেলা প্রশাসন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন আয়োজিত এবার টুর্নামেন্টের নবম এ আসরে মোট ১২টি ক্লাব অংশগ্রহণ করছে। দলগুলো হলো- ঢাকার টিম বিজেএমসি, বিকেএসপি, ওয়ারী ক্লাব, ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোটিং ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া চক্র, অগ্রণী ব্যাংক, উত্তর বারিধারা ক্লাব, টিএন্ডটি ক্লাব, পুলিশ এসি এবং টাঙ্গাইল লীগের চ্যাম্পিয়ন ইয়ুথ ক্লাব, রানার্সআপ ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। প্রতিটি দলে বিদেশী তিনজন খেলোয়ার অংশ নিতে পারবে। নক-আউট পদ্ধতিতে টুর্নামেন্টের খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
টুর্নামেন্ট সফল করার লক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্রীড়া সংস্থায় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ হাসান ফিরোজ, সৈয়দ মাহমুদ তারেক পুলু, মির্জা মইনুল হোসেন লিন্টু প্রমুখ। আয়োজকরা জানান, নবম জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে দেড় লাখ টাকা এবং রানার্স আপ দল পাবে এক লাখ টাকা।
এছাড়া জেলা প্রশাসক গোল্ডকাল ফুটবল টুর্নামেন্টে ২৫ লাখ টাকা বাজেট করা হয়েছে। টুর্নামেন্ট সফল করার জন্য ১০টি উপ-কমিটি করা হয়েছে। টুনামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুক, ছানোয়ার হোসেন এমপি, মনোয়ারা বেগম এমপি, জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন, পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ হাসান ফিরোজ জানান, ঢাকার বাইরে এতোগুলো ক্লাব নিয়ে এই টুর্নামেন্ট প্রতিবারের মতো এবারও সফল হবে। এখন থেকে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্টটি ধারাবাহিকভাবে হলে জেলার ফুটবল খেলার মান অনেক বৃদ্ধি পাবে।
জেলা প্রশাসক ও টুর্নামেন্ট কমিটির সভাপতি মাহবুব হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর হলেও নতুন করে আবার টুর্নামেন্ট শুরু করেছি। জেলার সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষনীয় এই টুর্নামেন্টটি এখন থেকে প্রতিবছরই আয়োজন করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ