চৈত্রেই এত গরম ॥ জ্যৈষ্ঠে তো দাবদাহে হাঁসফাঁস

121

জাহিদ হাসান ॥
চৈত্রের মধ্যভাগেই এত গরম। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা যে আরও বাড়বে সেই আভাস মিলছে এখনই। ভোরের মাঝারি শীতল প্রকৃতি সূর্য ওঠার সঙ্গেই তীব্র দহনে রূপ নিচ্ছে। কাছাকাছি অবস্থা সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। তাপমাত্রার আরও আভাস মেলে এই সময়ের বোরো আবাদের মাঠে গেলে। সেচের পানি দ্রুত শুষে নেয়। কৃষকরা রোদেলা আকাশে চেয়ে বলে, জ্যৈষ্ঠে মাড়াই কাটাইয়ের সময় তো দাবদাহে হাঁসফাঁস করতে হবে।
গরমে ঘামের বদলে এক ধরনের আঠালো পদার্থ নির্গত (বলা হয় সুয়েটিং) হয়ে তাপের অনুভবটা বেশি। আরেক ধরনের অবস্থা হয় গাছগাছালি কম থাকা এলাকায়। গ্রীষ্মকালীন তাপ বেশি অনুভূত হওয়ার অন্যতম কারণ, যত কার্বন নির্গত হচ্ছে বৃক্ষ তা শোষণ করতে পারছে না। ফলে অক্সিজেন দিতে পারছে না। এই অবস্থায় নিশ্বাস ঠিকমতো নিতে না পাড়ায় হাঁসফাঁস করছে মানুষ (ইংরেজীতে বলা হয় সাফোকেশন)। এই অবস্থা শুধু টাঙ্গাইল শহরে নয়, যেখানে বৃক্ষ কম সেখানেও। গ্রামে একটি কুসংস্কার আছে লম্বা সরা গাছের নিচ দিয়ে সন্ধ্যায় কেউ চলাচল করে না। দম বন্ধ হয়ে আসে। পুরনো মানুষেরা মনে করে কথিত ভূত। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো- সরা গাছের পাতা খুবই কম। অনেকে বলে ন্যাড়া গাছ। পাতা কম থাকায় কার্বন বেশি শোষণ করতে পারে না ফলে অক্সিজেনের প্রবাহ কম। সূর্য ডুবে যাওয়া ও গোধূলি বেলায় বৃক্ষরাজির মধ্যে কার্বন ও অক্সিজেনের একটা হিসাব হয়। এই সময়ে সরা গাছের নিচে অক্সিজেনের পরিমাণ এতই কমে যায় যে নারী শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় স্বাভাবিক শ্বাস নিতে পারে না। অধিক গরমে শহরাঞ্চলে গাছগাছালি কম থাকায় প্রায় একই অবস্থা। দেশে তাপ অনুভবের মাত্রা একেক স্থানে একেক রকম। রোদে বের হলে মনে হবে গা জ্বলে যাচ্ছে। ঘামও ঝরছে। এই বুঝি ফুসকুড়ি পড়বে। গা চুলকাতে থাকে। সেই মুহূর্তে কেউ এয়ারকন্ডিশনারের (এসি) মধ্যে প্রবেশ করলে হঠাৎ চুলকানি কমতে থাকে। অর্থাৎ বাইরের তাপমাত্রা যখন ৩৮-৩৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস এসি কক্ষের তাপমাত্রা ২২-২৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ঘামের ওপর কার্বন নিয়ন্ত্রিত শীতল পরশ পড়ার সঙ্গেই চিটমিটে ভাব কমে যায়। কিছুক্ষণ পরই ফের বাইরের তাপমাত্রা শরীরে গিয়ে পড়বে তখনই তাপ প্রবাহের ধাক্কা পূর্বের বাইরের অবস্থার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অনুভূত হবে। এই তাপ দেহের জলন্ত আরও বাড়িয়ে জ্বর সর্দি কাশি বাড়িয়ে দেয়।

ব্রেকিং নিউজঃ