চলন্ত বাসে ২০ হাজার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ডাকাতদের মধ্যে দ্বন্দ্ব

277

স্টাফ রিপোর্টার ॥
কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল এক্সপ্রেসের চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার রাজা মিয়া ডাকাতি ও ধর্ষণে অংশ নেন। গ্রেপ্তার অন্য দুই আসামি আওয়াল ও নুরনবী শুধু ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। শনিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আলম ও রুমি খাতুন তাঁদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। টাঙ্গাইলের আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহম্মদ বলেন, আসামি রাজা মিয়া ও নুরুনবীর জবানবন্দি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আলম লিপিবদ্ধ করেন। আর আসামী আওয়ালের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমি খাতুন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি উত্তর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, জবানবন্দিতে তিন আসামিই ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার পুরো বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রাজা মিয়া ধর্ষণ ও লুণ্ঠন উভয় অপরাধে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য দু’জন আওয়াল ও নুরনবী শুধু ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

 

এদিকে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার পর লুণ্ঠিত টাকা, মুঠোফোন ও অন্য জিনিসপত্র ভাগাভাগি নিয়ে ডাকাত দলের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একপর্যায়ে একজন আরেকজনের দেহ তল্লাশি শুরু করেন। এ সময় বাসের চালকের আসনে থাকা ডাকাত দলের এক সদস্য পেছনে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। তখন বাসটি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া এলাকায় সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।
পুলিশি হেফাজতে রিমান্ডে থাকা আসামি রাজা মিয়া এবং আবদুল আওয়াল ও নুরনবী জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশের ওই সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলে করটিয়া পার হওয়ার পর যাত্রীবেশে বাসে ওঠা ডাকাত দলের সদস্যরা বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। তাঁরা যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলেন। এরপর টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে শুরু করেন। পরে বাসের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, বাসটি মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত গিয়ে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে আবার টাঙ্গাইলের দিকে যাত্রা করে। একপর্যায়ে লুণ্ঠিত টাকা ও মুঠোফোনের সংখ্যা নিয়ে ডাকাত দলের সদস্যদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ডাকাত দলের এক সদস্য বাসের এক যাত্রীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন এবং ওই টাকা লুকিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন অন্য সদস্যরা। পরে একজন আরেকজনের দেহ তল্লাশি শুরু করেন। এ সময় চালকের আসনে গ্রেপ্তার রাজা মিয়া নন, দলের আরেক সদস্য ছিলেন। তিনি পেছন দিকে ফিরে ভালোভাবে তল্লাশি করার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। তখন বাসটি খাদে পড়ে যায়।

 

পুলিশের ওই সূত্র আরও জানায়, বাসটি খাদে পড়ার পর ডাকাত দলের সদস্যদের সবাই জানালা দিয়ে দ্রুত বের হয়ে যান। তাঁরা রক্তিপাড়া থেকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক ধরে মধুপুরের দিকে দৌড়াতে থাকেন। এভাবে প্রায় এক কিলোমিটার যাওয়ার পর তাঁরা একটি বাসকে সংকেত দিয়ে থামান। প্রথমে তিনজন ওই বাসে ওঠেন। কিছু দূর যাওয়ার পর বাকিরা বাসটিতে ওঠেন। তাঁরা নিজেদের পরিবহন শ্রমিক বলে পরিচয় দেন। মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে তাঁরা নেমে পড়েন। পরে অটোরিকশায় ডাকাত দলের এক সদস্যের আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন। সকাল হতেই তাঁরা ওই বাড়ি থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান। তাঁরা ৫টি স্মার্টফোন, ১২-১৩টি সাধারণ ফোন এবং ৩ হাজার ৪০০ টাকা লুণ্ঠন করেন। যে ২০ হাজার টাকা নিয়ে তাঁদের দ্বন্দ্ব হয়, সেই টাকা শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি।

গত মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল পরিবহনের বাসটি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি খাবার হোটেলে যাত্রাবিরতি নেয়। সেখান থেকে যাত্রা শুরুর পর তিন দফায় যাত্রীবেশে ১০-১২ জন ডাকাত বাসে ওঠেন।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ