ঘুড়ি উড়িয়ে অলস সময় পার গৃহবন্দী তরুণ তরুণীদের

6

হাসান সিকদার ॥
প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা বদলে দিয়েছে পুরো পৃথিবীর দৃশ্যপট। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা মানুষগুলো গৃহবন্দী ছিল প্রায় তিন মাস। এই অবস্থায় নিরাপদে থাকতে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে বন্ধ সব আউটডোর খেলাধুলা। আর এই লম্বা ছুটিতে বাঙালির ঐতিহ্য রুঙিন ঘুড়ি নিয়ে মেতে আছেন টাঙ্গাইলের নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী ও মধ্যবয়সীরা।
শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের অনেকেই একসাথে ফাঁকা জায়গায় ও বাড়ির ছাদে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায়। বিকেল হলেই যেন বাসাবাড়ির উচুঁ ছাদ ও ফাঁকা এলাকায় চলে ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব। ঘুড়ির সুতোয় কাটাকাটি খেলে কিংবা দূর আকাশে ঘুড়ি পাঠিয়ে এ যেন করোনাকালীন ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার এক সুস্থ বিনোদন।

গৃহবন্দীরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির কবে উন্নতি হবে তা বলা যাচ্ছে না। আবার বাড়ীতে দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে অনেকের মধ্যেই ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করছে। অনেকেই ঘুড়ি উড়িয়ে সেই ক্লান্তি ও অবসাদ ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন। মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে বদ্ধ হয়ে থাকা এক মানসিক যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলছে। নবম শ্রেণির ছাত্র সৃষ্টি হালদার টিনিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। আগে নিয়মিত স্কুলে যেতাম। বিকেলে মাঠে খেলাধুলা করতাম। এখন তো আর সেটা সম্ভব নয়। সবসময় রুমে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগে না। এদিকে মা-বাবা বাড়ী থেকে বের হতে দেন না। একঘেয়েমী কাটাতে বিকেলে এখন সবাই মিলে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র আরিফুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে গৃহবন্দী হয়ে জীবন যাপন করছি। গৃহবন্দীদশায় থাকার ফলে মানুষের মনে যে ক্লান্তি ও অবসাদ জমেছে, এই ঘুড়ি ওড়ানোর সময় তা কেটে যায়। ঘুড়ি উড়ানো ও কাটাকাটিতে মনটা চাঙ্গা হয়ে ওঠে। কলেজ শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম টিনিউজকে বলেন, তার দুই ছেলে-মেয়ে। এতদিন গৃহবন্দী থেকে হাঁপিয়ে উঠেছে। তাদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার উপায় নেই। তাই তারা এখন ঘুড়ি উড়ানোতে সময় কাটায়। ওদেরকে নিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর দৃশ্য দেখতে আমারও সময় কেটে যায়। ঘুড়ি ওড়ানো দেখে পেছনে ফেলে আসা সোনালি অতীতের স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে।
ঘুড়ি ওড়ানোর বিষয়ে প্রবীণ আক্কাস আলী টিনিউজকে বলেন, এর আগে কখনো এতো ঘুড়ি ওড়ানোর দৃশ্য দেখা যায়নি। আগে সাধারণত শীতকাল থেকে বসন্তকাল পর্যন্ত ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যেত। কিন্তু এবার গরম ও বৃষ্টির এই সময়ে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যাচ্ছে। মুলত করোনায় লকডাউনে ঘরবন্দী তরুণ-তরুণীরা ঘরে থাকতে থাকতে অতিষ্ট হয়ে অলস সময় পার করছে। এই অলসতা দূর করতেই তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী যুবক ও বয়স্করাও এখন ঘুড়ি ওড়ানোর মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজঃ