ঘাটাইলে ২২টি মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ॥ ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

120

ঘাটইলঘাটাইল সংবাদদাতাঃ
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যায় অভিযুক্ত থাকায় গত দের বছর ধরে পলাতক থাকায় ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে বলে জানান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। তার খবরদারিতে মাধ্যমিকস্তরের কমপক্ষে ২২টি বিদ্যালয়ে ও একটি মহিলা কলেজে নিয়োগ দিতে পারছে না। তিনি আত্মগোপনে থেকেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইলে কিংবা ব্যক্তিগত লোক মারফত খবর দারী করছেন বলে প্রতিষ্ঠানগুলো জানান। তিনি পেচারআটা মাটিআটা দাখিল মাদরাসা ও লোকেরপাড়া ফাজিল মাদাসার সভাপতি রয়েছেন। তার স্ত্রী ফরিদা রহমান পাকুটিয়া পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, আত্মগোপনে থাকা এমপির সাথে এখনো যোগাযোগ রয়েছে উপজেলার বিভিন্ন সরকারী অফিস কর্মকর্তাদের।
উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জটিলতার বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল– হক বলেন, মাধ্যমিকস্তরের ২২টি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। কারন হিসেবে জানান, এমপি সাহেব যদি বলেন আমি আসতাছি, আমি শীগ্রই আসছি। আমি না আসা পর্যন্ত কোন নিয়োগ দেয়া যাবে না। তাহলে আমি কি করবো? এভাবে তো মাসের পর মাস পার হয়ে যাচ্ছে। সে তো প্রায় বছর ধরে নেই। এমপি সাহেব বলেছেন, আমি শোকের মাসে আসবো। শোকের মাস তো শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এদিকে সামনে এসএসসি পরীক্ষা। বিদ্যালয়ে নানা কারণে শিক্ষক সংকট। একদিকে অবসর, অন্যত্র চলে যাওয়া, মৃত্যুবরন করা এভাবে উপজেলার ২২টি স্কুলে অংক, ইংরেজী, বিজ্ঞান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে শিক্ষকরা চাপ দিচ্ছেন নিয়োগ দেয়ার জন্য। অপরদিকে এমপি চাপ দিচ্ছেন নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্য। সব মিলেয়ে আমি অসহায় হয়ে আছি। তিনি আরো বলেন, এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে উপজেলার মাটি আটা দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদ সভাপতি এমপি আমানুর রহমান খান রানা। তিনি আত্মগোপনে থাকলেও তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে মাদ্রাসার কেরানি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে। এমনটাই জানালেন মাদ্রাসার সুপার আকবর হোসেন। তিনি বলেন, এমপি আত্মগোপনে থাকলেও কেরানির মাধ্যমে এমপির কাছ থেকে স্বাক্ষর আনা হয়। এর মধ্যে একটি শিক্ষক নেয়া হবে। যেহেতু এমপি জেলে না, বাহিরেই আছেন, দরকার হলে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর আনা হবে।
পাকুটিয়া স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এমপি আমানুর রহমান রানার স্ত্রী ফরিদা রহমান। এই কলেজের অধ্যক্ষ জেবুননেছা বলেন, তিনি থাকায় কোন অসুবিধা হচ্ছে না, যখন দরকার পরে তখনই পাই। আবার কোন কোন সময় স্বাক্ষরও আনা হয়। ঘাটাইলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাদিরা সুলতানা বলেন, এমপি সাহেবের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে। এমপি তার লোকজনের কাজ করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।
ঘাটাইল ব্রাহ্মনশাসন মহিলা কলেজের গভর্ণিং বডির সদস্য আব্দুস সালাম জানান, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লুৎফুন নাহার জানিয়েছেন- এমপি সাহেব নাকি নিয়োগ বাতিলের জন্য বলেছেন। ফলে কোন কাগজপত্র ডিজিতে বা বোর্ডে জমা দেয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, স্বচ্ছতার মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অধ্যক্ষের একগুয়েমীপনায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
এক সময়ে এমপি আমানুর রহমান খানের প্রতি আনুগত্যশীল ছিলেন এমন দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ বলেন, এমপি প্রথম যখন এসেছিলেন তখন ভালই মনে হয়েছিল। মানুষের সাথে মিশত, দাড়িওয়ালা লোক দেখলে দাড়িতে চুমু খেত। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তার আসল রুপ প্রকাশ পায়। প্রথমেই তিনি গ্রামেগঞ্জে শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘকে ভেঙ্গে তার ভাইয়ের নামে বাপ্পী স্মৃতি সংসদ করেন। এতে আওয়ামীমনা লোকদের মাঝে ব্যাপক আঘাত হানে। ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নিতে থাকে। বর্তমানে তার সমর্থনে কোন লোক নেই বলে তিনি জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ