ঘাটাইলে যৌতুক না দেয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা ॥ স্বামী পলাতক

143

1স্টাফ রিপোর্টারঃ
যৌতুকের দেড় ভরি স্বর্ণ না দেয়ায় সংখ্যালঘূ সম্প্রদায়ের স্ত্রী শিমু রাণীর (১৯) গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করল পাষন্ড স্বামী জগাই চন্দ্র দাস (২৫)। বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।  ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা সুবরন চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
মামলার বিবরনে জানা যায়, গত দুই বছর আগে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার গাবের গ্রামের (জেলেপাড়া)  সুবরন চন্দ্র বর্মনের মেয়ে শিমু রাণীকে হিন্দুরীতি অনুযায়ী বিয়ে দেয়া হয় ঘাটাইলের অতুল চন্দ্র দাসের ছেলে জগাই চন্দ্র দাসের সাথে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী যৌতুকের জন্য নানা নির্যাতন করে আসছিল স্ত্রী শিমু রাণীকে। নিহতের পিতা সুবরন চন্দ্র বর্মন জানান, বিয়ের সময় এক লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়। দেড় ভরি স্বর্ণ দেয়ার জন্য সময় নেন তিনি। আর এ যৌতুকের জন্য মাঝে মধ্যেই আমার মেয়ে শিমুকে অমানুষিক নির্যাতন করত। গত ২৯ অক্টোবর রাতে যৌতুকের স্বর্ণ ও টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটি হয়। এরই এক পর্যায়ে পার্ষন্ড স্বামী তার স্ত্রী শিমুর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ অবস্থায় প্রথমে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর বুধবার সন্ধ্যায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে যায় শিমু রাণী।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বাকীর করে বলেন, নিহত শিমু রাণীর লাশ ঢাকা মেডিকেল থেকে এনে তার শ্বশুর বাড়ীতে দাহ করার জন্য নিয়ে যায়। পরে তার আত্মীয়স্বজন দাহ করতে না দিয়ে লাশ থানায় নিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসামীদের ধরার চেষ্টা চলছে।

ব্রেকিং নিউজঃ