ঘাটাইলে পোলট্রির বিষাক্ত বর্জ্যে জমির ফসল পঁচে-পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে

71

স্টাফ রিপোর্টার ॥
পোলট্রি হ্যাচারির (সিপি) বিষাক্ত বর্জ্যে কষ্টে ফলানো ফসল চোখের সামনেই পঁচে-পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আকন্দ বাইদ গ্রামের কৃষকদের। অথচ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতো সাহস হয় না কোনো কৃষকের। বছরের পর বছর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ঘামের বিনিময়ে ফলানো ফসল। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এমন ঘটনাই ঘটছে উপজেলার আকন্দ বাইদ গ্রামে। প্রতিবাদে কৃষকরা মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর দিয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
সরজমিনে দেখা যায়, আকন্দের বাইদ ব্রয়লার সিপি ভালুকা নামে পোলট্রি হ্যাচারিটি কৃষি জমি ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা এ প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। পাইপ দিয়ে বর্জ্য ছেড়ে দেওয়া হয় ফসলি জমিগুলোতে। এতে বিনষ্ট হচ্ছে ফসল। দুর্গন্ধে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এলাকার মানুষের শ্বাসকষ্টসহ দেখা দিয়েছে নানা ধরনের রোগ। অসহায় কৃষকরা যারা জমি চাষ করে খায় তাদের হয়েছে মহা বিপত্তি। প্রতি বছরের ন্যায় চলতি বছরও প্রায় ৫০ একর আমন ধানের গোড়া পঁচে শিষ পুড়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে প্রায় তিনশ’ কৃষক পরিবারের স্বপ্ন। জমির উৎপাদিত ফসল বাচাঁতে পরবর্তীতে কৃষকরা গণস্বাক্ষর করে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক জাহাঙ্গীর আলম টিনিউজকে বলেন, পোলট্রি হ্যাচারি কর্তৃপক্ষকে প্রতিবারই ফসল ক্ষতির বিষয়টি জানানো হলেও কোনো লাভ হয় না। উল্টো একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে আমাদের মামলার ভয় দেখানো হয়। প্রতি একর জমিতে এখানে আমন ধান হয় প্রায় ৫০ মণ। সে হিসেবে এবার প্রায় আড়াই হাজার মণ আমন ধান পোলট্রি হ্যাচারির বিষাক্ত বর্জ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। অপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লস্কর আলী টিনিউজকে জানান, গত ৫ বছর ধরে এ ঘটনা ঘটছে। এ বছরও তাদের প্রায় ৫০/৫৫ একর জমির আমন ধানের গোড়া পঁচে ধানের শীষসহ গাছগুলো পুড়ে গেছে। আমরা এর একটা সমাধান চাই। আমাদের এই জমির ধানেই সংসার চলে। কিন্তু গত কয়েক বছর সব ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে আমাদের সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণ না পেলে বউ-বাচ্চা নিয়ে পথে বসতে হবে। ভুক্তভোগী আরেক কৃষক শফিকুল ইসলাম টিনিউজকে জানায়, ঘাটাইল উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা মুরগির হ্যাচারি রয়েছে প্রায় ৪০টি। তবে কৃষক মেরে নয়। আমাদের বাঁচিয়ে পরিবেশ বান্ধব যেনো কারখানা হয় এমনটাই আমরা আশা করি।
লক্ষিন্দর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান খান হাবিব টিনিউজকে বলেন, ইউএনও বরাবর আমরা অভিযোগ দিয়েছি, যেনো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের ক্ষতিপূরণ পায় এবং ওই কারখানার বিষাক্ত পানি কৃষকের জমিতে পুনরায় না আসে সেই ব্যবস্থা যেনো তারা করে দেন। তাহলেই অসহায় দরিদ্র কৃষকরা দু’মুঠো ভাত খেয়ে বাঁচতে পারবে।
এদিকে ব্রয়লার সিপি ভালুকা নামে পোলট্রি হ্যাচারি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোন কথা বলবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার টিনিউজকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। রিপোর্ট আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কারও যদি আপিল থাকে সেটাও আমলে নেয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ