ঘাটাইলে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ॥ হুমকির মুখে বসতভিটা ও ফসলি জমি

92

ঘাটাইল সংবাদদাতাঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের হাটকয়েড়া এলাকায় ঝিনাই নদী থেকে ৫টি অবৈধ বাংলাড্রেজার দিয়ে প্রায় ৬ মাস ধরে চলছে বালু উত্তোলন। উপজেলা ভূমি অফিসের মৌখিক অনুমতিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান তালুকদার ও ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান এ বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বসতভিটা, ফসলি জমি ও একটি গাইড বাঁধ নদী গর্ভে চলে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের নিকট আবেদন করেও এর প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের হাটকয়েড়া এলাকার ঝিনাই নদী থেকে ভূমি অফিসের মৌখিক অনুমতি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান তালুকদার ও ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান ৫টি অবৈধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন। সপ্তাহখানেক ধরে ৩টি ড্রেজার বন্ধ থাকলেও রাতদিন চলছে ২টি বাংলা ড্রেজার। বাকি ৩টি অন্যস্থানে স্থাপন করার কাজ চলছে। যেখানে বাংলা ড্রেজার বসানো হয়েছে তার ঠিক ৫০ মিটার দূরেই নতুন একটি ব্রিজের কাজ চলছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ওই ব্রিজটি। এছাড়াও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বসতভিটা, ফসলি জমি ও একটি গাইড বাঁধ নদী গর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে শত শত একর ফসলি জমি ও বসতভিটা। স্থানীয় মহির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি উপজেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দিলেও এর কোন প্রতিকার হয়নি।
এদিকে স্থানীয় বায়েজিদ ও সোমেলা বেগম সংবাদ কর্মীদের কাছে তথ্য তুলে ধরায় তাদের মাদক মামলা দিয়ে ফাঁসানো ও গ্রাম ছাড়া করার ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বালু উত্তোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট ওই প্রভাবশালী মহল।
অভিযোগের বিষয়ে আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদার বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আম্মিয়া খাতুন বলেন, এর আগে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার অফিসের লোক পাঠিয়ে ড্রেজার বন্ধ করা হয়েছিল। এখন কোন বাংলা ড্রেজার চলছে কিনা আমার জানা নেই। এলাকারবাসীর অভিযোগ সত্য নয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ বলেন, ঝিনাই নদীতে বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া খাতুনের ওই এলাকা পরিদর্শন ও মৌখিক অনুমতির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ