ঘাটাইলে টাকায় মিলে বনের জমিতে ঘর মেরামতের অনুমতি

145

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় আয়তনের প্রায় অর্ধেকই পাহাড়ী অঞ্চল। পাহাড় অধ্যুষিত ভূমির অধিকাংশই সরকারের বন বিভাগের সম্পত্তি। বংশ পরম্পরায় দরিদ্র এক শ্রেণির মানুষ দখল সূত্রে বনের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করে আসছে প্রায় দেড়শ বছর ধরে। ওই সকল মানুষ তাদের জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করতে গেলেই সাগরদিঘী বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা টাকা দাবি করেন। সেলামি হিসেবে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা। না দিলে ঠুকে দেওয়া হয় মামলা। এমন অভিযোগ এনে সম্প্রতি সাগরদিঘী ইউনিয়নের দুইজন ইউপি সদস্য’সহ আটজন ব্যাক্তি তদন্ত করে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।




জানা যায়, বন বিভাগের ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জের আওতায় বিট অফিস রয়েছে ছয়টি। সাগরদিঘী বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনিত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকার দরিদ্র মানুষের নিকট থেকে বাড়ি-ঘর ছাড়া করার মামলার ভয় দেখিয়ে ব্যাপকভাবে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণ করছেন। যেসব জায়গায় বন বিভাগের উডলট বাগান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, টাকার বিনিময়ে সেসব বাগানের বড় বড় গাছ এক শ্রেণির মানুষকে অবৈধভাবে বিক্রির সুযোগ করে দেন এই কর্মকর্তা। অপরদিকে বনের জমিতে বহু বছর ধরে বসবাস করে আসা নিরীহ জনগোষ্ঠি তাদের ঘর-বাড়ি মেরামত করতে গেলেই ওই কর্মকর্তাকে সেলামি হিসেবে দিতে হয় ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলা বারণ। মুখ খুললেই নাকি ঠুকে দেন বন আইনে মামলা।




এ অভিযোগে পাগারিয়া গ্রামের কালাম, কামালপুর গ্রামের সোহেল রানা’সহ ভুক্তভোগী পাঁচজনের নাম উল্লে করা হয়েছে। কালাম বর্তমানে প্রবাসী। তাঁর শ্বশুর আব্দুল বাছেদ জানান, মাস ছয়েক আগে দেশে এসে বাড়িতে একটা ঘরের কাজ করেন কালাম। এজন্য টাকা দাবি করলে বিট কর্মকর্তাকে টাকাও দেওয়া হয়। তবুও কালামের নামে কামালপুর এলাকায় বনের গাছ কাটার মামলা দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিট কর্মকর্তার অবৈধ পথে কামানো অর্থের একটি অংশ যায় বিভিন্ন নেতাদের পকেটে। এজন্যই নাকি ওই কর্মকর্তা কু-কর্ম করে পার পাচ্ছেন।




অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিট কর্মকর্তা পাগারিয়া কামালপুর ও মালিরচালা মৌজার প্রায় পাঁচশত একর জমি ভূইয়া পরিবারকে মৌখিক সম্মতি দিয়ে ভোগ দখলের সুযোগ করে দিয়েছেন। ওই কর্মকর্তার অত্যাচারে এলাকার মানুষ ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভুক্তভোগীদের রোষানলের কবলে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।




এসব বিষয়ে সাগরদিঘি’র বিট কর্মকর্তা সিদ্দিক হোসেন জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা, অসত্য ও ভিত্তিহীন। আর এ ধরনের লেনদেনের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। বন বিভাগের ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বনের জমিতে ঘর করে বসবাস করা সম্পূর্ণ অবৈধ। মানবতার দিক বিবেচনা করে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। তবে কোথাও কোথাও উচ্ছেদ করে সামাজিক বনায়ন করা হচ্ছে। আর বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ব্যক্তি আক্রোশ থেকে করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিয়া চৌধুরী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ