ঘাটাইলে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারে মামলা দায়ের ॥ আসামী অজ্ঞাতনামা

392

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের কাশতলা গ্রামের প্রবাসী জয়েনে উদ্দিনের ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার (৩১ অক্টোবর) সকালে প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বড় ভাই জয়নাল উদ্দিনের স্ত্রী শাহনাজ সুলতানা বাদী হয়ে ৩০২ ধারায় ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। এদিকে রোববার (৩১ অক্টোবর) বিকালে তিন লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ এশা জানাজা শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। অপরদিকে প্রবাসী জয়েনে উদ্দিনের চার বছরের আহত শিশু পুত্র সাফির অবস্থা এখনও সঙ্কটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ওই শিশুকে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
এদিকে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সুমি আক্তার ও তার শাশুড়িকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন সুমির প্রেমিক শাহজালাল ইসলাম সোহাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, নিহত সুমির স্বামী জয়েন উদ্দিন সৌদি প্রবাসী। জয়েন উদ্দিনের বড় ভাই জয়নালের স্ত্রী শাহনাজ রোববার (৩১ অক্টোবর) সকালে হত্যা মামলা করেছেন।
এদিকে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার গণমাধ্যমকে বলেন, ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আমরা রহস্য অনেকটাই উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। সাবেক স্ত্রী সুমি আক্তার ও তার শাশুড়ি জমেলা বেগমকে হত্যার পর শাহজালাল নিজেই আত্মহত্যা করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে সুমি ও শাহজালাল পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। প্রায় পাঁচ মাস তারা ঘর-সংসার করেন। এরপর সুমির বাবা জিন্নত আলী তাদের দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে সুমিকে বাড়িতে রেখে দেন। ওই সময় সুমি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। পরে তার গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট করার শর্তে সুমির আগের স্বামী জয়েন উদ্দিন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে সুমিকে আবার তার কাছে ফেরত নেন। এর কিছুদিন পর জয়েন উদ্দিন আবার বিদেশে চলে যান। সন্তান নষ্ট করায় সুমির সাবেক স্বামী শাহজালাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, সুমির স্বামী জয়েন উদ্দিন বাড়িতে না থাকায় মাঝে মধ্যেই শাহজালাল সুমির শশুর বাড়িতে আসতেন। ঘরের বারান্দার লোহার গ্রিলের চাবিও ছিল শাহজালালের কাছে। পরে শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাতে শাহজালাল সুমির ঘরে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে তার সাবেক স্ত্রী সুমি ও সুমির শাশুড়িকে হত্যা করেন। এ সময় সুমির শিশুসন্তানকেও হত্যার চেষ্টা করে। এরপর শাহজালাল নিজেই আত্মহত্যা করেন। বিভিন্ন আলামত ঘেটে আমরা বিষয়টির রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি। তারপরও ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনার কারণ হিসেবে পরকীয়াকে সন্দেহ করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ও প্রশাসন। তারা জানিয়েছেন, নিহত ওই যুবকের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রীর দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এর আগে শনিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার দিগর ইউনিয়নের কাশতলার খামারপাড়া এলাকায় প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বাসা থেকে প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের মা জমিলা বেগম (৬০), স্ত্রী সুমি বেগম (২৫) ও সুমির পরকীয়া প্রেমিক শাহজালালের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ