ঘাটাইলের সাগরদিঘীতে রাস্তার বেহাল দশা ॥ দুর্ভোগ চরমে

67

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের সাগরদিঘী রূপালী হল মোড় হতে চুলাবর (ফুলমালির চালা) বাজারের যোগাযোগের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় হয়ে পরে চলাচলের অনুপযোগী। এ যেন দেখার কেউ নেই।

জানা যায়, সাগরদিঘী ইউনিয়নের অন্যতম জনবসতিপূর্ণ গ্রাম এটি। জালালপুর, পাগারিয়াপাড়া, গুয়ারিয়াপাড়া, চুলাবর ও মালিরচালা এলাকায় হাজার হাজার পরিবার বাস করে। শুকনো ও বর্ষা মৌসুমে তাদের যাতায়াতের জন্য একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি। সাগরদিঘী বাজার থেকে চুলাবর বাজারের দূরত্ব প্রায় পাঁচ-ছয় কিলোমিটার। এই কাচা রাস্তাটির প্রধান যানবাহন হচ্ছে ভ্যান, ভ্যাটারিচালিত অটো রিক্সা ও ঘোড়ার গাড়ী। এই রাস্তার বর্তমানে বেহাল অবস্থার কারণে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে হাজারো মানুষের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। জরুরী কোনো রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেলা শহরে বা ঘাটাইল উপজেলা সদরে নিতে চাইলে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার রাস্তা হেটে আসতে হবে যা সেই রোগীর জন্য অসম্ভব। এমনকি যথাসময়ে রোগীকে হাসপাতালে নিতে না পারলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া মাঝে মধ্যেই রাস্তায় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকছে যানবাহন। এ কারণে সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। কৃষি নির্ভর অঞ্চলে সাগরদিঘী বাজারে কৃষি ফসলাদি পরিবহনের একমাত্র প্রধান সড়ক এটি হওয়ায় কৃষকদের ভোগান্তি যেন শ্বাসরুদ্ধকর। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের প্রধান এই সড়কে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভ্যানচালক তরনি চন্দ্র বর্মন টিনিউজকে বলেন, এই রাস্তায় চলাচল করতে আমাদের খুব ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তা কেউ দেখার নেই। পাকা করলে চলাচলে সকল সমস্যা দূর হবে। স্থানীয় কৃষক মোফাজ্জল হোসেন টিনিউজকে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ দিন ধরে এ রাস্তাটি কাঁচাই রয়ে গেছে। বর্তমানে কাদা রাস্তার কারণে ধানসহ অন্যান্য ফসল হাটবাজারে বিক্রি করতে খুবই কষ্ট করতে হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক ফজলুল করিম টিনিউজকে বলেন, রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরেছে। গ্রামের শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারে না। সরকারের কাছে দাবি অতি দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করার। পল্লী চিকিৎসক সামাদ মিয়া টিনিউজকে বলেন, জরুরী সময় রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার জন্যও যাতায়াতের এই সড়ক যেন মরণফাদেঁ পরিণত হয়েছে। চলাচল একেবারেই অনুপযোগী। লিটন সরকার, শাহাদত সিকদার ও আনোয়ার হোসেনসহ অনেকেই টিনিউজকে বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরে। আমরা বর্তমান উন্নয়ন বান্ধব সরকারের কাছে আবেদন জানাই অতি দ্রুত রাস্তাটি পাকা করে জন দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।

ইউপি সদস্য শুকুর মাহমুদ মন্ডল টিনিউজকে জানান, রাস্তাটি নির্মাণের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা প্রকৌশলী হেদায়েত উল্লাহ টিনিউজকে জানান, জনদূর্ভোগ নিরসনে রাস্তা নির্মাণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ