ঘাটাইলের তিন স্কুলছাত্রী ধর্ষণ।। দুই আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

16

স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৯ম শ্রেণীর তিন ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারী) সন্ধ্যার দিকে পৃথকভাবে তারা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ জবানবন্দি দেয়। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকারের আদালতে আসামী ইউসুফ আলী খান এবং এবং সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আসামী মো. বাবুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি লিপিবদ্ধ শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ছাড়া অপর আসামী মো. সবুজ ওরফে সুজন বাবু আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
অপরদিকে একই সাথে সন্ধ্যার দিকে ধর্ষণের শিকার ওই ৩ স্কুল ছাত্রী এবং তাদের অপর বান্ধবী স্বাক্ষী হিসেবে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন মাহবুব এবং ফারজানা হাসানাত তাদের জবানবন্দি লিপিবব্ধ করেন।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানবীর আহাম্মেদ এ প্রতিবেদকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারী) বিকেলে তাদেরকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীদের মেডিকেল পরীক্ষা সোমবার (২৭ জানুয়ারী) সম্পন্ন হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়।
উপজেলার সন্ধ্যানপুর ইউনিয়নের সাতকুয়াবাঈদ বন এলাকায় গত রোববার (২৬ জানুয়ারী) ৩ স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং তাদের অপর এক বান্ধবী লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে এক স্কুলছাত্রীর বাবা ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই স্কুলছাত্রীরা ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করে।

মামলা ও পারিবারিক সূত্রে যায়, রোববার ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান ছিলো। ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর চার ছাত্রী সকলেই সকালে স্কুলের উদ্যেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু তারা বিদ্যালয়ে না গিয়ে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মোতাবেক তারা স্কুলে না গিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাদের দুই ছেলে বন্ধু হৃদয় ও শাহীনকে নিয়ে উপজেলার সাতকুয়াবাঈদ গ্রামে ঘাটাইল সেনানিবাসের ফায়ারিং রেঞ্জে এলকায় বেড়াতে যায়। এ সময় ওই এলাকার ৫/৬জন যুবক তাদের পিছু নেয়। এক পর্যায়ে ওই যুবকরা চার ছাত্রীর বন্ধুদের এবং অটোচালকে মারধর করে। তারা ওই নির্জন বন এলাকায় ছাত্রীদের, তাদের দুই বন্ধু ও অটোচালকে জিম্মি করে রাখে। এক পর্যায়ে তিন ছাত্রীকে ওই যুবকরা ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের হাতে অপর এক ছাত্রী লাঞ্ছিত হয়। সন্ধ্যার পর ধর্ষকরা তাদের ছেড়ে দেয়। তারা অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলে। পরে অনেক খোজাখুজি করে ওই এলাকায় এক ছাত্রীর এক আত্মীয় বাড়িতে যায় এবং ঘটনা খুলে বলে। ওই আত্মীয়রা ছাত্রীদের অভিভাবকদের খবর দেয়। পরে গভীর রাতে অভিভাবকরা পুলিশকে জানায়। পুলিশ ও অভিভাবকরা গিয়ে তাদের রাতেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ধর্ষিতা তিন ছাত্রী ও লাঞ্চলার শিকার তাদের বান্ধবিকে সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আমাদের ৩টি টিম কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে অনেক কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এখনো আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ব্রেকিং নিউজঃ