গোপালপুরে স্কুল ছাত্র হৃদয় হত্যায় দুই কিশোরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

94

নুর আলম, গোপালপুর ॥
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নেশা ও চুরির টাকার ভাগবন্টন দ্বন্ধে কিশোর গ্যাংয়ের হৃদয় সহপাঠীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়। ৯ কিশোর গ্যাংয়ের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিল হৃদয়। তারা সবাই মিলে ডান্ডি বা গাম সেবন করে নেশা করতো। হাদিরা বাজারের একটি দোকান থেকে হৃদয় ডান্ডি কিনে নিয়ে আসতো। কিন্তু হৃদয় ডান্ডি নিয়ে আসার পথে বেশি অংশ খেয়ে ফেলতো। এনিয়ে তার উপর সবার ক্ষোভ ছিল।

সেই ক্ষোভ থেকে গলায় প্যান্টের বেল লাগিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে বাঁশঝাড় সংলগ্ন ডোবায় লাশ ফেলে রাখে। রোববার (৪ সেপ্টম্বর) হৃদয় হত্যা মামলায় গ্রেফতার ২ কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গোপালপুর থানা পুলিশ এমন তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, নেশার টাকা জোগাতে মসজিদের জুতা, বাগানের ফল এবং দোকান থেকে মোবাইল চুরি করে হাত পাকায় তারা। হস্তচালিত নলকূপ, খামারের হাস-মুরগী, খোয়ারের ছাগল এবং বাসাবাড়ির হাঁড়িপাতিল, লোহালক্কড়ও চুরি করত তারা।

থানায় দায়ের করা মামলা থেকে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট শিমলা পাবলিক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হৃদয় বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। ২২ আগস্ট হৃদয়ের বাবা ভ্যানচালক মোস্তফা থানায় একটি জিডি করেন।
২৮ আগস্ট থানা পুলিশ পলশিয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে হৃদয়ের গলিত লাশ উদ্ধার করে। গলায় নির্যাতনের চিহ্ন থাকায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ গত শুক্রবার একই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আবির হোসেনকে গ্রেফতার করে। শনিবার আদালতে আবীর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সে।

এদিকে গত শনিবার গ্রেফতার হওয়া মফিজ রবিবার আদালতে হৃদয় হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে একই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র।
মফিজ জানায়, হৃদয়ের নিকট তারা নেশার পাওনা বাবদ পাঁচ হাজার টাকা পেত। ঘটনার দিন হৃদয় তার বাবার পকেট থেকে গরু বিক্রির পনেরো হাজার টাকা চুরি করে।
নেশার আগে পাওনা টাকা দিতে চাইলেও নেশায় ভুর হয়ে টাকা দিতে অস্বীকার করে। ফলে গ্যাংয়ের সবাই মিলে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
শিমলা পাবলিক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুপন চন্দ্র গুহ জানান, হৃদয়সহ সকলেই মিলে একটি কিশোর গ্যাং তৈরি করে। এরা সবাই তার স্কুলের ছাত্র। করোনার সময় দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় এরা বখাটে হয়ে উঠে। প্রথম বিড়ি সিগারেট, তারপর গাজা এবং পরে ডান্ডি বা গাম সেবন করে নেশা করা শুরু করে।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, কিশোর গ্যাংয়ের বলি হয়ে আরেক কিশোর খুনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আবির ও মফিজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। জুতো সেলাই করার গাম দিয়ে নেশা করার প্রবনতা কিশোরদের মধ্যে বাড়ছে। এসবের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে।

ব্রেকিং নিউজঃ