গোপালপুরে প্রবাসির স্ত্রীকে অপহরণ ॥ আটক প্রধান আসামীকে ছেড়ে দিল পুলিশ

136

Tangail Pic- 02-11-15স্টাফ রিপোর্টারঃ
প্রবাসির স্ত্রীকে ভারতে পাচার করা মামলায় আটক প্রধান আসামীকে বাদির উপস্থিতিতেই ছেড়ে দিলেন পুলিশের তদন্তকারি কর্মকর্তা। এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা যায়, গোপালপুর উপজেলার হাদিরা গ্রামের মৃত ছান্নাউল্লাহ ফকিরের পুত্র কুয়েত প্রবাসি মফিজ ফকিরের স্ত্রী খাদিজা বেগমকে ঢাকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরির কথা বলে গত ৩ অক্টোবর বাড়ি থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায় একটি অপহরণকারী চক্র। গত ৫ অক্টোবর খাদিজার বাবা বিলডগা গ্রামের ইউসুফ আলী গোপালপুর থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারন ডায়েরী করেন। গত ১৫ অক্টোবর গৃহবধু খাদিজা তার কনিষ্ট ভ্রাতা গোলাপ হোসেনের নিকট মোবাইলে জানায়, “আমাকে হাদিরা গ্রামের মোজাফর হোসেনের পুত্র হামিদ এবং জামাল হোসেনের পুত্র সুমন তাকে অপহরণ করে ভারতে পাচারের জন্য দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকার একটি বাড়িতে আটকিয়ে রেখেছে। আমি পাচারকারিদের মোবাইল দিয়ে কৌঁশলে তোকে ফোন করেছি। তুই পুলিশের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে আমাকে দ্রুত মুক্ত করার ব্যবস্থা কর।” কথা শেষ না হতেই তার হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেয় অপহরণকারীরা। এ অবস্থায় খাদিজার বাবা ইউসুফ আলী গত ২৩ অক্টোবর হামিদ ও সুমনকে আসামী করে গোপালপুর থানায় নারী পাচার মামলা দায়ের করে।
বাদীর অভিযোগ, মামলা দায়ের করার পর থেকেই তদন্তকারি পুলিশ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ভিকটিম গৃহবধু খাদিজাকে উদ্ধার এবং আসামী গ্রেফতারে তালবাহানা শুরু করে। যানবাহন খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করে। দরিদ্র ইউসুফ আলী চাহিদামত টাকা পরিশোধের পর গত রবিবার ১ নভেম্বর রাত ১০ টার সময় তদন্তকারি দারোগা তোফাজ্জল হোসেন বাদী ও তার পুত্র গোলাপ হোসেনসহ তিন আত্মীয়কে সাথে নিয়ে আসামী ধরতে অভিযান চালায়। আসামী হামিদকে বাড়িতে পেয়ে দারোগা তোফাজ্জল আটক করে। হাতকড়া না পড়িয়ে দারোগা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে কৌশলে হামিদ পালিয়ে যায়। মামলার বাদী গোলাপের অভিযোগ, দৌড়িয়ে হামিদকে পাকড়াও করে সে ডাকাডাকি শুরু করলেও দারোগা এগিয়ে যায়নি। এক ফাঁকে পরনের লুঙ্গি রেখেই অপহরণকারী হামিদ পালিয়ে যায়। পরে ওই লুঙ্গি দারোগার হাতে তুলে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে তদন্তকারি পুলিশ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, ভাইরে নারী পাচারকারি মামলার প্রধান আসামী হামিদকে আটক করেছিলাম। কিন্তু নামের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বদমাশটা পালিয়ে গেছে। দশ হাজার টাকা ঘুষ নেইনি। গাড়ীর তেল খরচ বাবদ সামান্য ক’টি টাকা নিয়েছি।

ব্রেকিং নিউজঃ