মঙ্গলবার, আগস্ট 4, 2020
Home আইন আদালত গোপালপুরে পাওনা ৫ টাকা ফেরত চাওয়াতেই দাদিকে কুপিয়ে হত্যা

গোপালপুরে পাওনা ৫ টাকা ফেরত চাওয়াতেই দাদিকে কুপিয়ে হত্যা

আদালত সংবাদদাতা ॥
পাওনা ৫ টাকা ফেরত চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে দাদি হেনা বেগমকে (বাবার চাচি) কুপিয়ে হত্যা করেন রিপন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্য জানান। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সেনের মাকুল্যা গ্রামে রান্না ঘরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হন হেনা বেগম (৭০)। তিনি গ্রামের তালেব আলী মগুলের স্ত্রী।
পুলিশ টিনিউজকে জানায়, বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে হেনা বেগম বাড়িতে একা ছিল। তাঁর স্বামী ও ছেলে বাড়ির বাইরে ছিল। বেলা দুইটার দিকে তাঁরা বাড়ি ফিরে রান্নাঘরে হেনা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে অনিক বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় মামলা করেন।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান টিনিউজকে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় একই এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রিপনকে (২৫) আটক করা হয়। রিপনের বাবা নিহত হেনা বেগমের ভাতিজা। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রিপন কুপিয়ে হেনা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাঁদের বাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দা জব্দ করা হয়।
ওসি মুস্তাফিজুর রহমান টিনিউজকে আরও বলেন, রিপন আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তাকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আলম তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে রিপন জানিয়েছেন, তিনি হেনা বেগমের কাছ থেকে কিছুদিন আগে পাঁচ টাকা ধার নিয়েছিলেন। দুপুরে রান্না করার সময় রিপন সিগারেট ধরানোর জন্য তার কাছে আগুন চাইতে যান। হেনা বেগম পাওনা টাকা চেয়ে কটূক্তি করায় রিপন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি দা দিয়ে হেনা বেগমকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যান।
রিপন টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি। পরে গ্রামেই থাকতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ব্রেকিং নিউজঃ