গোপালপুরে কালের স্বাক্ষী অলৌকিক যোগীরঘোপা

104

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী ॥
অনেক অলৌকিক ঘটনাবলী আর কিংবদন্তী লোকমুখে প্রচলিত যোগীরঘোপা জায়গাটি আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় দাঁড়িয়ে আছে। যোগীরঘোপা নামক জায়গাটি ছিল রাজা যশোধরের গ্রীস্মকালীন বসবাসের এলাকা। ধারণা করা হয় সম্রাট শাহজাহানের সৌজন্যে মোঘল সাম্রাজ্যের বহির্ভূত অঞ্চলে রাজা যশোধর রাজ্য স্থাপন করেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলাধীন (বর্তমানে ভূঞাপুর) ফলদা গ্রামে। রাজা যশোধরের প্রথম রাজধানী ছিল ফলদা, দ্বিতীয় রাজধানী ছিল মধুপুরের গোলাবাড়ি গ্রামে।

লোকমুখে শোনা যায়, যোগীরঘোপা নামক এই স্থানটুকু শুকনা ও বর্ষা মাসে পানির উপর একই উচ্চতায় ভেসে থাকতো। কোন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনে বাসন-কোসনের জন্য নগ্ন গায়ে, নগ্ন পায়ে প্রার্থণা করলে সাথে সাথে প্রয়োজনীয় বাসন-কোসন পাওয়া যেত। অনুষ্ঠানের শেষে বাসনগুলো ধুয়ে মুছে ওই স্থানে ফেরৎ দিয়ে আসতে হতো। একবার একজন লোক বাসন নিয়ে সাকুল্য বাসন ফেরৎ না দেয়ায় পরবর্তী সময়ে আর বাসন পাওয়া যায়নি।

জায়গাটি জঙ্গলাকীর্ণ থাকায় সন্নাস বিদ্রোহে সন্নাসীরা এবং ধনপতি সওদাগররা নৌকায় ব্রম্মপুত্র নদী পারি দিয়ে এখানে আশ্রয় নিতেন। কথিত আছে রাজা যশোধর তার বহু মূল্যবান সামগ্রী ও ধন সম্পত্তি যোগীরঘোপায় লুকিয়ে রেখেছিলেন তার বংশধর এই ধন সম্পত্তির মালিক হবে এই কল্পনায়। ফলদা হতে যোগীরঘোপা পর্যন্ত একটি রাজপথও তৈরি করা হয়েছিল রাজন্য বর্গের যাতায়াতের জন্য। পরর্বতীতে হেমনগরের জমিদার এই স্থান থেকে অনেক মূল্যবান সম্পদ উদ্ধার করেছিল।

অনেকে এখানে মনোবাসনা পূরন হওয়ার জন্য আগরবাতি, মোমবাতিসহ বিভিন্ন মিষ্টিদ্রব্য নিয়ে আসেন। তবে এখন জঙ্গলাকীর্ণ এই জায়গাটি অনেক পীরবাবা আর গাজাখোরদের আস্তানায় পরিনত হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ