খান ও সিদ্দিকী পরিবারের প্রত্যক্ষ প্রভাবমুক্ত পরিবেশে আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

117

1207স্টাফ রিপোর্টারঃ

বিগত ২০০৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর আজ রোববার টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। স্বাধীনতার পর এই প্রথম টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে সিদ্দিকী ও খান পরিবারের প্রত্যক্ষ প্রভাবমুক্ত পরিবেশে সফল, স্বার্থক, বনার্ঢ্য ও ডিজিটাল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক কাগমারি সম্মেলনের পর এই প্রথম জেলা পর্যায়ে এতো বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠ পরিবেশে সফল সম্মেলন করতে পেরে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং জেলার কর্মী-সমর্থকরা। সম্মেলনে আসা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে আজ দলের দুষ্ট ও সন্ত্রাসীরা দূর হয়েছে। সন্ত্রাসীদের আওয়ামী লীগে কোন স্থান নেই তা নেত্রী আবারও প্রমান করলেন। শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগের নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সভাপতি পদে বর্ষিয়ান নেতা ফজলুর রহমান খান ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ত্যাগী নেতা এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোহেরকে।
আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিটি সম্মেলনেই টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত সিদ্দিকী এবং খান পরিবারের আধিপত্যের প্রতিযোগিতা চলে আসছিল। গত বছর সিদ্দিকী পরিবারের বড় ছেলে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী নিউইয়র্কে হজ নিয়ে বেফাঁস বক্তব্য দিয়ে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন, পরে দল থেকেও বহিস্কৃত হয়েছেন। পরে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী দল থেকে বের হয়ে নিজে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে একটি দল গঠন করেন। কাদের সিদ্দিকীর সাথে ছোট ভাই আজাদ সিদ্দিকী রাজনীতি করছেন। অপর ভাই মুরাদ সিদ্দিকী দুইবার সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে পরাজিত হয়েছেন। সর্বশেষ লতিফ সিদ্দিকীর দল থেকে বহিস্কৃত হওয়ার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইল জেলায় আওয়ামী রাজনীতিতে সিদ্দিকী পরিবারের অবসান ঘটে।
অন্যদিকে, প্রভাবশালী খান পরিবারের কর্ণধার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শামসুর রহমান খান শাজাহান বিগত ২০১২ সালে মারা যান। পরবর্তীতে শামসুর রহমান খানের ভাতিজা আমানুর রহমান খান রানা ঘাটাইল-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়। অপর ভাতিজা সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়। আরেক ভাতিজা জাহিদুর রহমান খান কাঁকন জেলার পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ পদ নেন। এছাড়া এদের ছোট ভাই সানিয়াত খান বাপ্পা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদ লাভ করেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তারা এ পদগুলো লাভ করেন। চার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে প্রায় এক বছর ধরে তারা আতœগোপণে রয়েছেন। এজন্য খান পরিবারের কোন সদস্য সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। জেলায় এর আগের সম্মেলনগুলোতে এরা প্রত্যক্ষভাবে মঞ্চে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জেলার এ দু’টি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের প্রভাবমুক্ত হয়ে, সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে সম্মেলন আয়োজন করায় জেলার সাধারণ নেতাকর্মীরা সকল ভয়ভীতির উর্দ্ধে থেকে উৎসব আমেজ পরিবেশে জেলার সফল সম্মেলনে অংশ নেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে দলীয় আতœঘাতি সিদ্বান্ত বন্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগে চক্রান্তকারীদের কোন জায়গা নেই। দলে থেকে যে বা যারা দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মানতে চিন্তা-ভাবনা করে, তারা দলের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে না। টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারকে ইঙ্গিত করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, এক সময় শোনা যেতো একটি পরিবার না থাকলে নাকি টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ অচল হয়ে পড়বে। আজ তারা নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী স্বতস্ফূর্তভাবে আজকের এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছে, সফল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ ফারুক আহমদকে স্বরণ করে আরও বলেন, তাঁর মতো ত্যাগী নেতা দ্বিতীয়টি টাঙ্গাইলে জন্ম নেবে না। জেলা আওয়ামী লীগের সকল কাজে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য।
রোববার অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি একথা বলেন। টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়াম অনুষ্ঠিত দিনব্যাপি সম্মেলনে ও এর আশপাশে প্রায় ৫০ হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকের সমাগম ঘটে।

ব্রেকিং নিউজঃ