সোমবার, আগস্ট 10, 2020
Home অর্থ ও ব্যবসা কোরবানীর জন্য টাঙ্গাইলে চাহিদার থেকে বেশি গরু প্রস্তুত

কোরবানীর জন্য টাঙ্গাইলে চাহিদার থেকে বেশি গরু প্রস্তুত

নোমান আব্দুল্লাহ ॥
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের সকল উপজেলার গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িই এখন একটি খামারে পরিনত হয়েছে। প্রতিবছর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ সব খামারের গরু অন্যান্য জেলার গরুর হাট গুলোতে যায় বিক্রির জন্য। জেলা প্রাণী সম্পদের হিসাবে এবার টাঙ্গাইলে চাহিদার থেকে প্রায় ২০ হাজার বেশি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। জেলায় এ বছর কোরবানিযোগ্য গরু, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য মোট ৯০ হাজার ৫৭৭টি গবাদিপশু প্রস্তুতি করা হয়েছে। কিন্তু এবার করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে দু:চিন্তায় রয়েছেন খামারীরা। গেল বছর পশুর আশানুরুপ দাম পেলেও করোনা ও বন্যার কারণে এবার ন্যায্যমূল্য নিয়ে চিন্তায় প্রহর কাটছে তাদের। আশঙ্কা করছেন লোকসানের।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, বেশকয়েক বছর আগে দেশে কোরবানীর গরুর সংকট ছিল। ব্যক্তি পর্যায় ও সরকারি নানামুখী পদক্ষেপে সে সংকট কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। কোরবানীতে দেশী গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বিগত কয়েক বছরে বেশিরভাগ খামারীরা কম-বেশি লাভবান হয়েছেন। সেই সাথে গরুর উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও গরুর খামার লাভজনক হওয়ায় টাঙ্গাইল জেলার সকল উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে গরুর খামার। খামারীরা টিনিউজকে বলেন, এসব খামারের গরু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন পালন করা হয়েছে। গরুগুলো খাওয়ানো হচ্ছে দেশীয় খাবার খড়, খৈল, ভুসি, গুড়ের চিটা, লবণ, চাল-ডাল ও ছোলা-গুঁড়োসহ চাষ করা নেপিয়ার ঘাস। পশু চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী গরুগুলোকে দেয়া হয় চিকিৎসা। ব্যবহার করা হচ্ছে না মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো মেডিসিন। কোরবানীর ঈদ মৌসুমের তিন থেকে চার মাস আগে থেকে এসব খামারে গরু পালন করা হয়। অবশ্য কেউ কেউ এক কোরবানীর ঈদে খামারের গরু বিক্রি করে পরের মৌসুমের জন্য গরু পালন করা শুরু করেন। প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা দেশীয় জাতের গরুর চাহিদা বেশী ক্রেতাদের। এ কারণে হাটে নেয়ার সাথে সাথে বিক্রি হয়ে যায় এসব গরু। অনেক সময় খুচরা ক্রেতা ও পাইকাররা খামার থেকেই গরু কিনে নিয়ে যান। ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন বাড়তে থাকে খামারের সংখ্যা। অন্য বছর কোরবানীর ঈদেও এক মাস আগে থেকেই গুরুর পাইকাররা গরু দেখতে চলে আসেন খামারে। কিন্তু এ বছর করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে ভিন্ন চিত্র। আসছেন না পাইকাররা। তাই গরু বিক্রি করা নিয়ে চিন্তিত এসব খামারীরা।
খামারের শ্রমিকরা টিনিউজকে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে তারা গরু মোটাতাজা করতে নির্ঘুম রাত পাড় করছেন। খামার মালিক যদি গরুর ন্যায্য দাম না পায় তাহলে তাদের শ্রম ও মজুরি পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে। খামারে কাজ করে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসার চলে বলে জানান তারা। এসব গরুর খামারে তৈরি হয়েছে অনেক মানুষের কর্মসংন্থানেরও। এতে তাদের দারিদ্রতাও দুর হচ্ছে। ঘাটাইল উজেলার মনহারা গ্রামের দরিদ্র কৃষক সুজনের স্ত্রী এলিজা বেগম। সংসারের কিছুটা ভার লাঘবের জন্য প্রতি বছরের ন্যায্য এবারও ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের সদস্যদের মত যত্নে লালন পালন করছেন দুটি দেশীয় জাতের গরু। এলিজা বেগম টিনিউজকে বলেন, গেল বছর এই সময়টাতে ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও এবার তাদের দেখা না পাওয়ায় বিরাট লোকসানের শঙ্কা ভর করেছে তার মনে। ন্যায্য দাম না পেলে পথে বসতে হবে তার। ভূঞাপুরের দুলাল হোসেন চকদারের খামারে থাকা শতাধিক বড় আকারের গরু নিয়েও পড়েছেন বিপাকে। এখন পর্যন্ত ক্রেতার দেখা না পাওয়ায় আশঙ্কা করছেন ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা লোকসানের। এমন চিত্র জেলার অনেকের।
জেলা প্রানী সম্পদ দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ১৪১টি বানিজ্যিক খামার রয়েছে। এছাড়াও অল্প সংখ্যক গরু লালন পালন করছেন গ্রামের প্রায় প্রতিটা পরিবার। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে টাঙ্গাইলের দেশীয় জাতের গরু অন্য জেলাতেও যাবে বিক্রির জন্য। জেলায় কোরবানির জন্য ৭৩ হাজার ৫৪৭টি পশুর প্রয়োজন। কিন্তু এর থেকে বেশি গরু প্রস্তুতি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সায়েদ সরকার টিনিউজকে বলেন, ভারত থেকে গরু না আসলে খামারিদের লোকসানের কোন শঙ্কা নেই তাদের। দামও ভালো পাবে তারা। জেলা প্রাণী সম্পদের হিসাবে টাঙ্গাইলে কোরবানিযোগ্য গরু, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য ৯০ হাজার ৫৭৭টি গবাদিপশু মজুদ রয়েছে। বিভিন্ন খামারীতে অনেক নামের গরু রয়েছেন। আমরা অনলাইনের মাধ্যমে খামারিদের গরু বিক্রির চেষ্টা করছি। যা ইতিমধ্যেই উপজেলা প্রানিসম্পদের ফেসবুকে দেয়া হয়েছে। সারা উপজেলায় এবার ৬৭টি গরুর হাট বসবে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ব্রেকিং নিউজঃ