কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে নিরলস কাজ করছে সরকার —কৃষিমন্ত্রী

73

স্টাফ রিপোর্টার: কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে নিরলস কাজ করছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নেয়া হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে দক্ষ জনবল তৈরিতে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলীর ২৮৪টি পদ সৃজন করা হয়েছে । কিন্তু আমাদের দেশে ক্ষেতগুলো ছোট ছোট। তাছাড়া, কৃষকেরা বিভিন্ন জমিতে বিভিন্ন সময়ে চারা রোপন করে। ফলে কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার সঠিকভাবে করা যায় না। ‘সমলয়’ পদ্ধতিতে চাষ করলে যন্ত্রের ব্যবহার সহজতর হবে। কৃষকের সময় ও শ্রম খরচ কমবে। কৃষক লাভবান হবে।

মন্ত্রী শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারী) সকালে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার কেন্দুয়া গ্রামে ‘সমলয় পদ্ধতিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ৫০ একর জমিতে/ ব্লকে ধানের চারা রোপণ উদ্বোধন ও কৃষক সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কৃষক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ। এছাড়া বিএডিসির চেয়ারম্যান মো: সায়েদুল ইসলাম,ব্রির মহাপরিচালক ড. মো: শাহজাহান কবীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কেন্দুয়া গ্রামের হাইব্রিড ধানের সমলয় চাষাবাদ প্রদর্শনী সর্বমোট ৫০ একর জমিতে স্থাপিত হয়েছে যেখানে ৯০ জন উদ্যোগী কৃষক এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত আছে। উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড এস এল ৮ জাতের ধান এখানে যন্ত্রের মাধ্যমে রোপন করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে সারাদেশের ৬১টি জেলায় এই মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সমলয় চাষাবাদ একযোগে চলমান আছে। প্রণোদনার আওতায় কৃষকদেরকে হাইব্রিড জাতের বোরো ধানবীজ, সার, চারা রোপণসহ অন্যান্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তার অংশ হিসাবে ধনবাড়ী উপজেলায় এই ব্লক প্রদর্শনী স্থাপিত হয়েছে।

‘সমলয়’ চাষের এক নতুন পদ্ধতি। সবাই মিলে একটি ব্লকে/মাঠে একসঙ্গে একই জাতের ধান একই সময়ে যন্ত্রের মাধ্যমে রোপণ করা হয়। বীজতলা থেকে কর্তন, সকল প্রক্রিয়া যন্ত্রের সাহায্যে সমসময়ে সম্পাদন করা হয়। এ পদ্ধতিতে ধান আবাদ করতে হলে চারা তৈরি করতে হয় ট্রেতে। ট্রেতে চারা উৎপাদনে জমির অপচয় কম হয়। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো যায়। কৃষক তার ফসল একত্রে মাঠ থেকে ঘরে তুলতে পারে। কারণ, একসঙ্গে রোপণ করায় সব ধান পাকবেও একই সময়ে। তখন ধান কাটার মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কর্তণ ও মাড়াই করা যাবে। এসব কারণে সমলয় পদ্ধতিতে যন্ত্রের ব্যবহার সহজতর ও বৃদ্ধি হবে। ফলে, ধান চাষে সময়, শ্রম ও খরচ কম লাগবে তেমনি উৎপাদনও হবে বেশি। এতে লাভবান হবেন কৃষকরা।

কৃষি কার্যক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কৃষকের চাহিদা মাফিক শ্রমিক পাওয়া অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে যায়। সময়মতো শ্রমিক না পাওয়া গেলে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যাহত হয়, অন্যদিকে উচ্চমূল্যে শ্রমিক সংগ্রহ করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হয়। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। কিন্তু বিভিন্ন জমিতে বিভিন্ন সময়ে চারা রোপন করা হলে যান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে যায়। সমলয় পদ্ধতিতে চাষে এসব সমস্যার অনেকটা সমাধান করা সম্ভব।

 

ব্রেকিং নিউজঃ