কালিহাতীর স্বপন কুটির শিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বীর পথ দেখাচ্ছেন

231

সোহেল রানা, কালিহাতী ॥
কুটির শিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক। আর এ ঐতিহ্য, লোকাচরে, জীবনধারায় বেতের পাটি অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত ছিল একসময়। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে বেতের তৈরি পাটি। সেই হারিয়ে যাওয়া বেতের পাটির ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সিলিমপুর চাটিপাড়া গ্রামের অনিল কুমার দে’র ছেলে স্বপন কুমার দে (৪০) তার শৈল্পিক মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে সেই পাটি দিয়ে বিভিন্ন কুটির শিল্প সামগ্রী তৈরি করে কালিহাতীর পাটি শিল্পীদের স্বাবলম্বীর পথ দেখাচ্ছেন। এই কুটির শিল্প বর্তমানে এই উপজেলাসহ দেশ এবং দেশের বাইরের সকল মানুষের মন ছুঁয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেতের পাটি দিয়ে তৈরি কুটির শিল্প সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ ব্যাগ (ডায়মন্ড), ছেলেদের অফিস ব্যাগ, বড় ডি ব্যাগ (লেডিস), লেডিস কোবরা ব্যাগ, মিনি কোবরা ব্যাগ, লেডিস আপেল ব্যাগ, কোবরা বুবুন ব্যাগ, বড় টব ব্যাগ, ছোট পিয়ালি ব্যাগ, মার্কেটিং ব্যাগ (চিকন), মার্কেটিং ব্যাগ (মোটা), বাঙালি ব্যাগ, দিনহা পার্স, ছেলেদের মানিব্যাগ, ছেলে ও মেয়েদের জুতা, গ্লাসমেট, ফটো ফ্রেম, কলমদানি, প্লেটমেট ও ছেলেদের কোমড়ের বেল্টসহ ইত্যাদি।
জানা যায়, স্বপন কুমার তার মনের মাধুর্য্য মিশিয়ে তৈরি করছেন চোখ ধাঁধানো এসব সামগ্রী। তিনি বিগত ২০১৪ সালে এই ভিন্নধর্মী কুটির শিল্প তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পাটি তৈরির পাশাপাশি কুটির শিল্পের সামগ্রীগুলো তৈরি করে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। স্বপন কুমার টিনিউজকে জানান, বিগত ২০১৪ সালে যখন তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তখন তিনি এবং তার পরিবারের লোকজন নিয়ে কাজ করতেন। সেলাইয়ের জন্য অন্যের মেশিনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে সেলাইয়ের কাজ করে আনতেন। বর্তমানে সময়মত ডেলিভারি ও এর চাহিদা বেশি থাকায় ৪টি সেলাই মেশিন ঋণ করে ক্রয় করে তার অধীনে ৪ জন কর্মচারী দিয়ে কাজ করাচ্ছেন এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে অর্ডার পাচ্ছেন। এসব সামগ্রী তৈরি করতে বেতের পাটি ছাড়াও রেক্সিন, চেইন, কাপড়, সুতাসহ বেশ কিছু উপাদান লাগে। যা বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। সঠিক দাম না জানা থাকায় উপাদানগুলো চড়া দামে কিনতে হচ্ছে তার। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রত্যেকটি সামগ্রীতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা লাভ থাকে। পাটি শিল্পকে আরো জাগিয়ে তুলতে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের চিত্রসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি পাটির মধ্যে তুলে ধরেছেন। সেটি বিগত কালিহাতী উপজেলায় উন্নয়ন মেলায় প্রদর্শিত করা হয়। শুধু হাতের কারুকাজ দিয়েই কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন।
স্বপন কুমার দে’র এই কাজটি বর্তমানে কালিহাতীর অন্যান্য পাটি শিল্পীদের স্বাবলম্বীর পথ দেখাচ্ছে। এদিকে কালিহাতীর সুশীল সমাজ মনে করছেন পরিবেশবান্ধব এই শিল্পসহ সব ধরনের কুটির শিল্পকে ধরে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এই শিল্পের সাথে সাথে দেশ পৌঁছাবে উন্নতির শীর্ষে। বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আত্মনির্ভরশীল একটি দেশ। জাতি ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব।

ব্রেকিং নিউজঃ